৬৫/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫০৪ - আশুরার সাওমের ইতিহাস ও বিধান
আশুরার সাওমের ইতিহাস: কুরাইশ, মদিনা ও রমযানের বিধান
সহীহ বুখারী : ৪৫০৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৫০৪
مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا هِشَامٌ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبِيْ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُوْرَاءَ تَصُوْمُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَصُوْمُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِيْنَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ الْفَرِيْضَةَ وَتُرِكَ عَاشُوْرَاءُ فَكَانَ مَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ لَمْ يَصُمْهُ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন সাওম পালন করত। নবী (ﷺ)-ও সে সাওম পালন করতেন। যখন তিনি মদিনায় হিজরত করলেন তখনও তিনি সে সাওম পালন করতেন এবং অন্যদের পালনের নির্দেশ দিতেন। এরপর যখন রমজান (সম্পর্কিত আয়াত) অবতীর্ণ হলে রমজানের সাওম ফরজ হল এবং আশুরার সাওম বাদ গেল। এরপর যে চাইত সে উক্ত সাওম পালন করত আর যে চাইত তা পালন করত না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৫০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আশুরার সাওমের ধাপগুলো খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। আয়িশা (রাঃ) জানান, জাহিলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন সাওম পালন করত। নবী (صلى الله عليه وسلم)-ও এই সাওম পালন করতেন। মদিনায় হিজরতের পরও তিনি আশুরার সাওম পালন করেন এবং অন্যদেরও তা পালন করতে নির্দেশ দেন। এরপর যখন রমযানের সাওম ফরজ হলো, তখন আশুরার সাওম বাদ গেল। এরপর যে চাইত সে রাখত, আর যে চাইত রাখত না। আশুরার সাওম নিয়ে যারা ইতিহাস ও বিধান জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে রমযানের ফরজ সাওমের অবস্থান এবং আশুরার সাওমের ইচ্ছাধীন অবস্থান একসঙ্গে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জাহিলি যুগে কুরাইশরা আশুরার সাওম পালন করত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মদিনায় আসার পর আশুরার সাওম পালন করেন এবং নির্দেশ দেন।
- রমযানের সাওম ফরজ হওয়ার পর আশুরার সাওম বাধ্যতামূলক থাকেনি।
- যে চাইত আশুরার সাওম রাখত, আর যে চাইত রাখত না।
