৬৫/২৬২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৮৬ - নবীজির স্ত্রীদের আখিরাত নির্বাচন
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
আখিরাতের জীবন বেছে নেওয়া: নবীজির স্ত্রীদের এক জবাব
সহীহ বুখারী : ৪৭৮৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৭৮৬
وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِيْ يُوْنُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ لَمَّا أُمِرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِتَخْيِيْرِ أَزْوَاجِهِ بَدَأَ بِيْ فَقَالَ إِنِّيْ ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلَا عَلَيْكِ أَنْ لَا تَعْجَلِيْ حَتَّى تَسْتَأْمِرِيْ أَبَوَيْكِ قَالَتْ وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَيَّ لَمْ يَكُوْنَا يَأْمُرَانِيْ بِفِرَاقِهِ قَالَتْ ثُمَّ قَالَ إِنَّ اللهَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ قَالَ ﴾وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه” وَالدَّارَ الْاٰخِرَةَ فَإِنَّ اللهَ أَعَدَّ لِلْمُحْسِنٰتِ مِنْكُنَّ أَجْرًا عَظِيْمًا﴿ قَالَتْ فَقُلْتُ فَفِيْ أَيِّ هَذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَيَّ فَإِنِّيْ أُرِيْدُ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ قَالَتْ ثُمَّ فَعَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ ﷺ مِثْلَ مَا فَعَلْتُتَابَعَهُ مُوْسَى بْنُ أَعْيَنَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ أَبُوْ سَلَمَةَ وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَأَبُوْ سُفْيَانَ الْمَعْمَرِيُّ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাঁর সহধর্মিণীদের ব্যাপারে দু’টি পন্থার একটি পন্থা বেছে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হল, তখন তিনি প্রথমে আমাকে বললেন, তোমাকে একটি বিষয় সম্পর্কে বলব। তাড়াহুড়ো না করে তুমি তোমার আব্বা ও আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে নিবে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তিনি অবশ্যই জানতেন, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলবেন না।‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا إِلَى أَجْرًا عَظِيمًا “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....মহা প্রতিদান পর্যন্ত।‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শের কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন কামনা করি। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন ঃ নবী (ﷺ)-এর অন্যান্য সহধর্মিণী আমার মতই জবাব দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৭৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের ঘটনারই আরেকটি বর্ণনা এসেছে। যখন রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে তাঁর স্ত্রীদের বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে বলা হলো, তিনি প্রথমে আয়িশা (রাঃ)-কে বিষয়টি জানান। তিনি তাঁকে বলেন, তাড়াহুড়া না করে পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ করতে। এরপর আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে দুনিয়ার জীবন ও তার সাজসজ্জা এবং আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতের জীবনের কথা আছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবনই চান। হাদিসে আরও এসেছে, নবী صلى الله عليه وسلم-এর অন্যান্য সহধর্মিণীরাও একই জবাব দেন। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ঈমানের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم স্ত্রীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
- আয়িশা (রাঃ) স্পষ্টভাবে আখিরাতকে বেছে নিয়েছেন।
- অন্যান্য সহধর্মিণীরাও একই জবাব দিয়েছেন।
- দুনিয়ার সাজসজ্জার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি বড় লক্ষ্য।
