৬৭/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৮৮ - পালকপুত্রের পরিচয় ও সম্পর্ক
স্বামী এবং স্ত্রীর একই দ্বীনভুক্ত হওয়া এবং আল্লাহর বাণী:
﴾وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا فَجَعَلَهُ نَسَبًا وَصِهْرًا وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًا﴿অর্থাৎ “তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানুষ, অতঃপর মানুষকে করেছেন বংশ সম্পর্কীয় ও বিবাহ সম্পর্কীয়, তোমার প্রতিপালক সব কিছু করতে সক্ষম।” (সূরা আল-ফুরকান: ৫৪)"
পালকপুত্রের পরিচয়: ইসলাম বংশ ও সম্পর্ককে কীভাবে দেখে
সহীহ বুখারী : ৫০৮৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ،، وَكَانَ، مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ﷺ تَبَنَّى سَالِمًا، وَأَنْكَحَهُ بِنْتَ أَخِيهِ هِنْدَ بِنْتَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَهْوَ مَوْلًى لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ، كَمَا تَبَنَّى النَّبِيُّ ﷺ زَيْدًا، وَكَانَ مَنْ تَبَنَّى رَجُلاً فِي الْجَاهِلِيَّةِ دَعَاهُ النَّاسُ إِلَيْهِ وَوَرِثَ مِنْ مِيرَاثِهِ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ ﴾ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾وَمَوَالِيكُمْ﴿ فَرُدُّوا إِلَى آبَائِهِمْ، فَمَنْ لَمْ يُعْلَمْ لَهُ أَبٌ كَانَ مَوْلًى وَأَخًا فِي الدِّينِ، فَجَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو الْقُرَشِيِّ ثُمَّ الْعَامِرِيِّ ـ وَهْىَ امْرَأَةُ أَبِي حُذَيْفَةَ ـ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نَرَى سَالِمًا وَلَدًا وَقَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ مَا قَدْ عَلِمْتَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুযাইফাহ (রাঃ) ইব্নু উত্বাহ ইব্নু রাবিয়া ইব্নু আবদে শাম্স, যিনি বাদ্রের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) - এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, তিনি সালিমকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেন এবং তাঁর সঙ্গে তিনি তাঁর ভাতিজী ওয়ালীদ ইব্নু উত্বাহ ইব্নু রাবিয়ার কন্যা হিন্দাকে বিয়ে দেন। সে ছিল এক আনসারী মহিলার আযাদকৃত দাস যেমন যায়দকে নবী (ﷺ) পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।জাহিলী যুগের রীতি ছিল যে, কেউ যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে পালক-পুত্র হিসেবে গ্রহণ করত, তবে লোকেরা তাকে ঐ ব্যক্তির পুত্র হিসেবে ডাকত এবং মৃত্যুর পর ঐ ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হত। যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ অর্থাৎ, “তাদেরকে (পালক পুত্রদেরকে) তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাক......তাঁরা তোমাদের মুক্ত করা গোলাম।” (সূরা আহযাবঃ ৫) এরপর থেকে তাদেরকে পিতার নামেই শুধু ডাকা হত। যদি তাদের পিতা সম্পর্কে জানা না যেত, তাহলে তাকে মাওলা বা দ্বীনি ভাই হিসাবে ডাকা হত।তারপর [আবূ হুযাইফাহ ইব্নু ‘উত্বাহ (রাঃ) - এর স্ত্রী] সাহ্লা বিনতে সুহায়ল ইব্নু ‘আম্র আল কুরাইশী আল আমিরী নবী (ﷺ) - এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা সালিমকে আমাদের পুত্র হিসেবে মনে করতাম; অথচ এখন আল্লাহ্ যা অবতীর্ণ করেছেন তা তো আপনিই ভাল জানেন। এরপর তিনি পুরো হাদীস বর্ণনা করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুযাইফা (রাঃ), সালিম এবং সাহলা বিনতে সুহাইল (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। জাহিলী যুগে কাউকে পালকপুত্র করলে তাকে পালক পিতার সন্তান হিসেবে ডাকা হতো এবং সে উত্তরাধিকারও পেত। পরে আল্লাহর নির্দেশ নাজিল হয় যে, পালকপুত্রদের তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাকতে হবে। পিতা জানা না থাকলে তারা দ্বীনি ভাই ও মাওলা হিসেবে পরিচিত হবে। এই বর্ণনায় সালিমের অবস্থার কারণে সাহলা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে প্রশ্ন করেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ইসলাম বংশ, পরিচয় ও সম্পর্কের সত্যতা রক্ষা করে। ভালোবাসা ও দায়িত্ব থাকতে পারে, কিন্তু নাম, বংশ এবং শরয়ি সম্পর্কের সীমা আলাদা রাখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পালক সন্তানকে জন্মদাতা পিতার পরিচয়ে ডাকা উচিত।
- দ্বীনি ভাই বলা সম্মানের, তবে তা বংশের পরিচয় বদলায় না।
- ইসলাম সম্পর্কের সত্যতা ও ন্যায্য পরিচয় রক্ষা করে।
- জটিল পারিবারিক বিষয়ে জ্ঞানীদের কাছে প্রশ্ন করা দরকার।
