৬৭/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৮৭ - কুরআন শেখানো মাহর হিসেবে
দরিদ্র ব্যক্তির বিয়ে করা বৈধ। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
﴾إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ﴿“যদি তারা দরিদ্র হয়, আল্লাহ তার মেহেরবানীতে সম্পদশালী করে দেবেন।” (সূরা নূর ২৪/৩২)"
মাহর: লোহার আংটি না থাকলেও কুরআনের মর্যাদা
সহীহ বুখারী : ৫০৮৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫০৮৭
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ جَاءَتْ امْرَأَةٌ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ جِئْتُ أَهَبُ لَكَ نَفْسِي قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺفَصَعَّدَ النَّظَرَ فِيهَا وَصَوَّبَه“ ثُمَّ طَأْطَأَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَأْسَه“ فَلَمَّا رَأَتَ الْمَرْأَةُ أَنَّه“ لَمْ يَقْضِ فِيهَا شَيْئًا جَلَسَتْفَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِه„ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ فَزَوِّجْنِيهَا فَقَالَ وَهَلْ عِنْدَكَ مِنْ شَيْءٍ قَالَ لاَ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَالَ اذْهَبْ إِلٰى أَهْلِكَ فَانْظُرْ هَلْ تَجِدُ شَيْئًا فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ لاَ وَاللهِ مَا وَجَدْتُ شَيْئًا فَقَالَ رَسُوْلُ الله ﷺ انْظُرْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ لاَ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَلاَ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ وَلٰكِنْ هٰذَا إِزَارِي قَالَ سَهْلٌ مَا لَه“ رِدَاءٌ فَلَهَا نِصْفُه“ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا تَصْنَعُ بِإِزَارِكَ إِنْ لَبِسْتَه“ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا مِنْه“ شَيْءٌ وَإِنْ لَبِسَتْه“ لَمْ يَكُنْ عَلَيْكَ مِنْه“ شَيْءٌ فَجَلَسَ الرَّجُلُ حَتّٰى إِذَا طَالَ مَجْلِسُه“ قَامَ فَرَآه“ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مُوْلِّيًا فَأَمَرَ بِه„ فَدُعِيَ فَلَمَّا جَاءَ قَالَ مَاذَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ قَالَ مَعِي سُوْرَةُ كَذَا وَسُوْرَةُ كَذَا عَدَّدَهَا فَقَالَ تَقْرَؤُهُنَّ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِكَ قَالَ نَعَمْ قَالَ اذْهَبْ فَقَدْ مَلَّكْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ.
সাহ্ল ইবনু সা‘দ আস-সাইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) - এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আমার জীবনকে আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি। নবী (ﷺ) তার দিকে তাকালেন এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন। তারপর তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলাটি দেখল, নবী (ﷺ) তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়ল।এরপর নবী (ﷺ) - এর সাহাবীদের মধ্যে একজন দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনার বিয়ের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সঙ্গে এর বিয়ে দিন। রাসূল (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহ্র কসম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কিনা। এরপর লোকটি চলে গেল। ফিরে এসে বলল, আল্লাহ্র কসম! আমি কিছুই পাইনি।এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, আবার দেখ, লোহার একটি আংটিও যদি পাও। তারপর লোকটি আবার ফিরে গেল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাও পেলাম না, কিন্তু এই আমার লুঙ্গি (শুধু এটাই আছে)। (রাবী) সাহ্ল (রাঃ) বলেন, তার কাছে কোন চাদর ছিল না। লোকটি এর অর্ধেক তাকে দিতে চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, সে তোমার লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? তুমি যদি পরিধান কর, তাহলে তার কোন কাজে আসবে না, আর সে যদি পরিধান করে, তবে তোমার কোন কাজে আসবে না।তারপর বেশ কিছুক্ষণ লোকটি নীরবে বসে থাকল। তারপর উঠে দাঁড়াল। সে যেতে উদ্যত হলে নবী (ﷺ) তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী পরিমাণ কোরআন মাজীদ মুখস্থ আছে? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে গণনা করল। নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি তোমার মুখস্থ আছে। সে বলল, হাঁ। নবী (ﷺ) বললেন, যে পরিমাণ কোরআন তোমার মুখস্থ আছে তার বিনিময়ে তোমার কাছে এ মহিলাটিকে তোমার অধীনস্থ করে (বিয়ে) দিলাম।
[৯]
সহীহ বুখারী হাদিস ৫০৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারী নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে নিজেকে সমর্পণের কথা বলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে একজন সাহাবী তাঁকে বিয়ে করার আগ্রহ জানান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কাছে মাহরের মতো কিছু আছে কি না জিজ্ঞেস করেন। তিনি কিছুই পাননি, এমনকি লোহার আংটিও না। তাঁর কাছে শুধু একটি লুঙ্গি ছিল, যা ভাগ করলে কারও উপকার হতো না। শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) জিজ্ঞেস করেন, তাঁর কতটুকু কুরআন মুখস্থ আছে। তিনি কিছু সূরার নাম বলেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর মুখস্থ কুরআনের বিনিময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। এই হাদিসে মাহর, সহজ বিয়ে, কুরআনের মর্যাদা এবং দরিদ্র মানুষের প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কোমল আচরণ পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়েতে মাহরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
- দারিদ্র্য সম্মানজনক বিয়ের পথে একমাত্র বাধা নয়।
- কুরআন জানা ও শেখানো বড় মর্যাদার বিষয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের বাস্তব অবস্থা দেখে সহজ সমাধান দিতেন।
