৬৮/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৯৭ - ইফতারের সঠিক সময়
ইশারার মাধ্যমে তালাক ও অন্যান্য কাজ।
وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُعَذِّبُ اللَّهُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا فَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ وَقَالَ كَعْبُ بْنُ مَالِكٍ أَشَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ أَيْ خُذِ النِّصْفَ وَقَالَتْ أَسْمَاءُ صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُسُوفِ فَقُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا شَأْنُ النَّاسِ وَهِيَ تُصَلِّي فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا إِلَى الشَّمْسِ فَقُلْتُ آيَةٌ فَأَوْمَأَتْ بِرَأْسِهَا أَنْ نَعَمْ وَقَالَ أَنَسٌ أَوْمَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ إِلَى أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَتَقَدَّمَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَوْمَأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ لَا حَرَجَ وَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ أَحَدٌ مِنْكُمْ أَمَرَهُ أَنْ يَحْمِلَ عَلَيْهَا أَوْ أَشَارَ إِلَيْهَا قَالُوا لَا قَالَ فَكُلُوا.ইবন ‘উমার (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ চোখের পানির জন্য শাস্তি দিবেন না; তবে শাস্তি দিবেন এটার জন্য এই বলে তিনি মুখের প্রতি ইশারা করলেন। কা‘ব ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) আমার প্রতি ইশারা করে বললেন: অর্ধেক লও। আসমা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেন। ‘আয়িশা (রাঃ) সালাত আদায় করছিলেন। এ অবস্থায় আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম ব্যাপার কী? তিনি তাঁর মাথা দ্বারা সূর্যের দিকে ইশারা করলেন।আমি বললাম: কোনো নিদর্শন নাকি? তিনি মাথা নেড়ে বললেন: জি হাঁ। আনাস (রাঃ) বলেন: নবী (ﷺ) তাঁর হাত দ্বারা আবূ বকর (রাঃ)-এর প্রতি ইশারা করে সামনে যেতে বললেন। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন: কোনো দোষ নেই। আবূ কাতাদা (রাঃ) নবী (ﷺ) মুহরিম-এর (ইহরামকারী) শিকার সম্বন্ধে বললেন, তোমাদের কেউ কি তাকে (মুহরিমকে) এ কাজে লিপ্ত হবার আদেশ করেছিল বা শিকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল? লোকেরা বলল: না। তিনি বললেন, তবে খাও।"
ইফতারের সময়: পূর্ব দিক থেকে রাত এলে সাওমকারী ইফতার করবে
সহীহ বুখারী : ৫২৯৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫২৯৭
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي أَوْفٰى قَالَ كُنَّا فِي سَفَرٍ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَلَمَّا غَرَبَتْ الشَّمْسُ قَالَ لِرَجُلٍ انْزِلْ فَاجْدَحْ لِي قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ أَمْسَيْتَ ثُمَّ قَالَ انْزِلْ فَاجْدَحْ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ أَمْسَيْتَ إِنَّ عَلَيْكَ نَهَارًا ثُمَّ قَالَ انْزِلْ فَاجْدَحْ فَنَزَلَ فَجَدَحَ لَه“ فِي الثَّالِثَةِ فَشَرِبَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثُمَّ أَوْمَأَ بِيَدِه„ إِلَى الْمَشْرِقِ فَقَالَ إِذَا رَأَيْتُمْ اللَّيْلَ قَدْ أَقْبَلَ مِنْ هَا هُنَا فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলাম। সূর্য অস্তমিত হতে তিনি এক ব্যক্তি (বিলাল)- কে বললেনঃ নেমে যাও, আমার জন্য ছাতু প্রস্তুত কর। সে বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! যদি আপনি সন্ধ্যা নাগাদ অপেক্ষা করতেন। (তাহলে সাওম পূর্ণ হত)। তিনি পুনরায় বললেনঃ নেমে গিয়ে ছাতু মাখ। সে বললঃ হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! যদি সন্ধ্যা হতে দিতেন! এখনো তো দিন রয়ে গেছে। তিনি আবার বললেনঃ যাও, গিয়ে ছাতু প্রস্তুত কর। তৃতীয়বার আদেশ দেয়ার পর সে নামল এবং তাঁর জন্য ছাতু প্রস্তুত করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা খেলেন। এরপর তিনি পূর্বদিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ যখন তোমরা ওদিক থেকে রাত্রি নেমে আসতে দেখবে, তখন সাওমকারী ইফতার করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫২৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের একটি ঘটনা এসেছে। সূর্য অস্ত গেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একজনকে ছাতু প্রস্তুত করতে বললেন। তিনি বারবার বললেন, এখনো তো দিন রয়ে গেছে, যদি একটু সন্ধ্যা হতে দিতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনবার নির্দেশ দিলেন। অবশেষে তিনি ছাতু প্রস্তুত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তা পান করলেন। এরপর তিনি পূর্বদিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, যখন তোমরা ওই দিক থেকে রাত নেমে আসতে দেখবে, তখন সাওমকারী ইফতার করবে। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইফতারের সময়। সূর্যাস্তের পর রাতের আগমন দেখা গেলে ইফতার করার নির্দেশ এসেছে। এখানে “ইফতারের সময়”, “সাওমকারী ইফতার করবে” এবং “সূর্যাস্তের পর ইফতার” প্রধান কীওয়ার্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্যাস্তের পর রাতের আগমন দেখা গেলে সাওমকারী ইফতার করবে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিজে সফরে ইফতারের সময় শিক্ষা দিয়েছেন।
- প্রশ্ন বা দ্বিধা থাকলেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মানা হয়েছে।
- ইফতারের সময় বুঝাতে তিনি পূর্বদিকে ইশারা করেছেন।
