৬৮/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩০৭ - লি‘আনে সত্য, মিথ্যা ও তাওবা
পুরুষকে প্রথমে লি‘আন করানো হবে।
লি‘আনে তাওবার ডাক: আল্লাহ জানেন কে মিথ্যাচারী
সহীহ বুখারী : ৫৩০৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩০৭
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَه“ فَجَاءَ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ ﷺيَقُوْلُ إِنَّ اللهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে, হিলাল ইবনু উমাইয়্যা তার স্ত্রীকে (যিনার) অপবাদ দেয়। তিনি এসে সাক্ষ্য দিলেন। নবী (ﷺ) বলতে লাগলেনঃ আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই জানেন তোমাদের দুজনের একজন তো মিথ্যাচারী। অতএব কে তোমাদের দুজনের মধ্যে তাওবাহ করতে প্রস্তুত আছ? এরপর স্ত্রী লোকটি দাঁড়াল এবং (নিজের দোষমুক্তির) সাক্ষ্য দিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিলাল ইবন উমাইয়ার ঘটনার কথা এসেছে। তিনি নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেন এবং এসে সাক্ষ্য দেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তখন বলেন, আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের দুজনের একজন মিথ্যাচারী। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের কেউ কি তাওবা করতে প্রস্তুত? পরে স্ত্রীও দাঁড়িয়ে নিজের দোষমুক্তির সাক্ষ্য দেয়। এই হাদিসে লি‘আন, মিথ্যা অপবাদ এবং তাওবার বিষয় একসঙ্গে এসেছে। মানুষ অন্যের সামনে কথা বললেও আল্লাহর কাছে সত্য গোপন থাকে না—এ কথাটি এখানে খুব স্পষ্ট। তবে হাদিসে কে মিথ্যা বলেছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায়ও নির্দিষ্ট কাউকে দোষী বলা যাবে না। মূল শিক্ষা হলো, গুরুতর বিষয়ে মিথ্যা বলা ভয়ংকর এবং তাওবার সুযোগকে হালকা করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ সত্য ও মিথ্যা সব জানেন।
- গুরুতর অভিযোগে মিথ্যা বলা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
- নবীজি লি‘আনের সময় তাওবার আহ্বান করেছেন।
- হাদিসে কাউকে নির্দিষ্ট করে মিথ্যাচারী বলা হয়নি।
