৬৯/১৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৭২ - দুধ সম্পর্ক ও বিবাহের নিষেধ
দাসী ও অন্যান্য নারী কর্তৃক দুধ পান করানো।
দুধ সম্পর্কের বিধান: কন্যা ও বোন পেশ না করার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৩৭২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩৭২
يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ أَخْبَرَتْه“ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ انْكِحْ أُخْتِي بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ قَالَ وَتُحِبِّينَ ذَلِكِ قُلْتُ نَعَمْ لَسْتُ لَكَ بِمُخْلِيَةٍ وَأَحَبُّ مَنْ شَارَكَنِي فِي الْخَيْرِ أُخْتِي فَقَالَ إِنَّ ذَلِكِ لاَ يَحِلُّ لِي فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَوَاللهِ إِنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّكَ تُرِيدُ أَنْ تَنْكِحَ دُرَّةَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ فَقَالَ بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَوَاللهِ لَوْ لَمْ تَكُنْ رَبِيبَتِي فِي حَجْرِي مَا حَلَّتْ لِي إِنَّهَا بِنْتُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ أَرْضَعَتْنِي وَأَبَا سَلَمَةَ ثُوَيْبَةُ فَلاَ تَعْرِضْنَ عَلَيَّ بَنَاتِكُنَّ وَلاَ أَخَوَاتِكُنَّ.وَقَالَ شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ عُرْوَةُ ثُوَيْبَةُ أَعْتَقَهَا أَبُو لَهَبٍ.
উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বললামঃ হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার বোন আবূ সুফিয়ানের মেয়েকে আপনি বিয়ে করুন। তিনি বললেনঃ তুমি কি তা পছন্দ কর? আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি তো আর আপনার অধীনে একা নই। যারা আমার সঙ্গে কল্যাণের অংশীদার, আমার বোনও তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক, তাই আমি অধিক পছন্দ করি। তিনি বললেনঃ কিন্তু সে তো আমার জন্য হালাল হবে না।আমি বললাম: হে আল্লাহ্র রাসূল! আল্লাহ্র কসম! আমাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে, আপনি নাকি আবূ সালামার মেয়ে দুর্রাকে বিয়ে করার ইচ্ছা করেছেন? তিনি বললেনঃ উম্মু সালামার মেয়েকে? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! সে যদি আমার কোলে পালিত, পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত উম্মে সালামার গর্ভের সন্তান নাও-হতো, তবু সে আমার জন্য বৈধ ছিল না। সে তো আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা। সুওয়ায়বা আমাকে ও আবূ সালামাকে দুধ পান করিয়েছেন। সুতরাং তোমাদের কন্যা ও বোনদের আমার সামনে পেশ করো না। [৩৫]শু‘আইব যুহরী হতে বর্ণনা করেছেন যে, ‘উরওয়াহ বলেছেনঃ সুওয়ায়বাকে আবূ লাহাব আযাদ করে দিয়েছিল।
[৩৫] রক্ত সম্পর্ক যাকে হারাম করে, দুধ সম্পর্কও তাকে হারাম করে। রক্ত সম্পর্কিত বোন, কন্যা, ভাইঝি, ভাগনী ইত্যাদিকে যেমন বিয়ে করা হারাম, তেমনি দুধ সম্পর্কিত বোন, কন্যা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে ইত্যাদিকেও বিয়ে করা হারাম। রেজায়াত বা দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হবার জন্য দু’টি শর্ত রয়েছে। তা হলঃ১। সময়সীমাঃ দুধ পানকারীর বয়স দু’ বছরের কম হতে হবে।২। একবার হলেও ক্ষুধা নিবারণ করে দুধ পান করা সাব্যস্ত হতে হবে যা হাদীসের ভাষায় দুয়ের অধিক পাঁচবার পর্যন্ত পান করার কথা বলা হয়েছে। (মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনু মাজাহ সহ অনেকেই বর্ণনা করেছেন। ফিকহুস সুন্নাহ ২য় খণ্ড ১০৬-১০৭ পৃষ্ঠা।)
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু হাবীবা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে তাঁর বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, তা তাঁর জন্য হালাল নয়। এরপর দুররা বিনত আবু সালামার বিষয় উঠলে তিনি বলেন, সে যদি তাঁর কোলে পালিত মেয়ে না-ও হতো, তবু বৈধ হতো না। কারণ সে তাঁর দুধ-ভাইয়ের কন্যা। সুওয়াইবা নবী (صلى الله عليه وسلم) ও আবু সালামাকে দুধ পান করিয়েছিলেন। শেষে তিনি বলেন, তোমাদের কন্যা ও বোনদের আমার সামনে পেশ করো না। এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দুধ সম্পর্ক এবং বিবাহের নিষেধ। এখানে একই সঙ্গে বোন ও দুধ-সম্পর্কিত আত্মীয়তার সীমা স্পষ্ট হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধ সম্পর্ক বিবাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে।
- বোনকে একসঙ্গে বিবাহের বিষয়টি হাদিসে বৈধ বলা হয়নি।
- ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক জানার আগে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া উচিত নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ভুল ধারণা হলে তা পরিষ্কার করে দিতেন।
