৭২/২. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৭৬ - কুকুর দিয়ে শিকার ও খাওয়ার শর্ত

তীর লব্ধ শিকার।

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ فِي الْمَقْتُولَةِ بِالْبُنْدُقَةِ تِلْكَ الْمَوْقُوذَةُ وَكَرِهَهُ سَالِمٌ وَالْقَاسِمُ وَمُجَاهِدٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَعَطَاءٌ وَالْحَسَنُ وَكَرِهَ الْحَسَنُ رَمْيَ الْبُنْدُقَةِ فِي الْقُرَى وَالْأَمْصَارِ وَلَا يَرَى بَأْسًا فِيمَا سِوَاهُ.বন্দুকের গুলিতে শিকার সম্বন্ধে ইবন ‘উমার (রাঃ) বলেছেন: এটি মাওকুযা বা খেতলে যাওয়া শিকারের অন্তর্ভুক্ত। সালিম, কাসিম, মুজাহিদ, ইবরাহীম, ‘আত্বা ও হাসান বাসরী (রহঃ) একে মাকরুহ মনে করেন। হাসানের মতে গ্রাম এলাকা ও শহর এলাকায় বন্দুক দিয়ে শিকার করা মাকরুহ। তবে অন্যত্র শিকার করতে কোনো দোষ নেই।"

কুকুর দিয়ে শিকার: কখন খাওয়া যাবে আর কখন নয়

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪৭৬

سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنِ الْمِعْرَاضِ فَقَالَ إِذَا أَصَبْتَ بِحَدِّه„ فَكُلْ فَإِذَا أَصَابَ بِعَرْضِه„ فَقَتَلَ فَإِنَّه“ وَقِيذٌ فَلاَ تَأْكُلْ فَقُلْتُ أُرْسِلُ كَلْبِي قَالَ إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَسَمَّيْتَ فَكُلْ قُلْتُ فَإِنْ أَكَلَ قَالَ فَلاَ تَأْكُلْ فَإِنَّه“ لَمْ يُمْسِكْ عَلَيْكَ إِنَّمَا أَمْسَكَ عَلٰى نَفْسِه„ قُلْتُ أُرْسِلُ كَلْبِي فَأَجِدُ مَعَه“ كَلْبًا آخَرَ قَالَ لاَ تَأْكُلْ فَإِنَّكَ إِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلٰى كَلْبِكَ وَلَمْ تُسَمِّ عَلٰى آخَرَ.

আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-কে তীরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তীরের ধারালো অংশ দ্বারা আঘাত করে থাক তাহলে খাও, আর যদি ফলার আঘাত লেগে থাকে এবং শিকারটি মারা যায়, তাহলে খেও না। কেননা, সেটি ওয়াকীয বা থেতলে মরার মধ্যে গণ্য।আমি বললামঃ আমি তো শিকারের জন্য কুকুর ছেড়ে দেই। তিনি উত্তর দিলেনঃ যদি তোমার কুকুরকে তুমি বিসমিল্লাহ পড়ে ছেড়ে থাক, তা হলে খাও। আমি আবার বললামঃ যদি কুকুরটা কিছু খেয়ে ফেলে? তিনি বললেনঃ তা হলে খেও না, কারণ সে তা তোমার জন্য ধরে রাখেনি বরং সে ধরেছে নিজের জন্যই। আমি বললামঃ আমি আমার কুকুরকে পাঠিয়ে দেবার জন্য যদি তার সঙ্গে অন্য কুকুরকেও দেখতে পাই, তখন? তিনি বললেনঃ তাহলে খেও না। কেননা, তুমি তো কেবল তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলেছ, অন্য কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলনি।

সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৭৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আদি ইবনু হাতিম (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে তীর এবং কুকুর দিয়ে শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তীরের ধারালো অংশে আঘাত করলে খাওয়া যাবে, কিন্তু পাশের আঘাতে মারা গেলে তা ওকীয, তাই খাওয়া যাবে না। এরপর কুকুরের প্রসঙ্গে বলেন, যদি বিসমিল্লাহ পড়ে নিজের কুকুরকে শিকারে পাঠানো হয়, তাহলে সে যে শিকার ধরে রাখে তা খাওয়া যাবে। কিন্তু কুকুর যদি শিকার থেকে খেয়ে ফেলে, তাহলে খেতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সে তা নিজের জন্য ধরেছে। আবার নিজের কুকুরের সঙ্গে অন্য কুকুর পাওয়া গেলে খেতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ বিসমিল্লাহ শুধু নিজের কুকুরের জন্য বলা হয়েছিল।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তীরের ধারালো অংশে নিহত শিকার খাওয়ার কথা এসেছে।
  • বিসমিল্লাহ পড়ে কুকুর পাঠানো শিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
  • কুকুর নিজে শিকার খেয়ে ফেললে তা খেতে নিষেধ করা হয়েছে।
  • অন্য কুকুর মিশে গেলে শিকারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন