১০/৩৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৬১ - ইশার সালাতের অপেক্ষার ফজিলত
মসজিদে সালাতে অপেক্ষমান ব্যক্তি এবং মসজিদের ফজিলত।
ইশার সালাতের অপেক্ষার ফজিলত ও জামাআতের গুরুত্ব
সহীহ বুখারী : ৬৬১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬৬১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ هَلِ اتَّخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَاتَمًا فَقَالَ نَعَمْ، أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاَةَ الْعِشَاءِ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ بَعْدَ مَا صَلَّى فَقَالَ " صَلَّى النَّاسُ وَرَقَدُوا وَلَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مُنْذُ انْتَظَرْتُمُوهَا». قَالَ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি আংটি ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক রাতে তিনি ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করলেন। সালাত শেষ করে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, লোকেরা সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যতক্ষণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলে বলে গণ্য করা হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেন, এ সময় আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর আংটির উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করছিলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাতের জন্য অপেক্ষা করাও আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল। আনাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় দেখা যায়, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইশার সালাত অর্ধরাত পর্যন্ত বিলম্বে আদায় করেন। অনেক মানুষ সালাত পড়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের তিনি সান্ত্বনা দিয়ে বলেন যে, তারা যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় ছিলেন, ততক্ষণ সালাতে রত ছিলেন বলে গণ্য হয়েছে। এখানে ইশার সালাত, জামাআতের অপেক্ষা এবং মসজিদে ধৈর্য ধরে থাকা—এসব বিষয় একসাথে ফুটে উঠেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ইবাদতের পথে অপেক্ষাও ব্যর্থ যায় না। তবে এই শিক্ষা হাদিসের বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত; এতে নির্দিষ্টভাবে অপেক্ষার মর্যাদার কথা এসেছে, অন্য কোনো অতিরিক্ত শর্ত বা দাবি নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের জন্য অপেক্ষা করাও মূল্যবান ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- জামাআতের জন্য ধৈর্য ধরে থাকা মুমিনের ভালো গুণ।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের কষ্ট বুঝে তাদের উৎসাহ দিতেন।
- ইশার সালাতের গুরুত্ব ও সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকা দরকার।
