১০/১২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৮০৩ - সালাতে তাকবিরের নিয়ম
সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতে বলতে নত হওয়া।
وَقَالَ نَافِعٌ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَضَعُ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ.নাফি (রহঃ) বলেন, ইবন ‘উমার (রাঃ) সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখতেন।"
সালাতে তাকবিরের নিয়ম: আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনা
সহীহ বুখারী : ৮০৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮০৩
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، كَانَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ صَلاَةٍ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ وَغَيْرِهَا فِي رَمَضَانَ وَغَيْرِهِ، فَيُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. ثُمَّ يَقُولُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ. قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ، ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ. حِينَ يَهْوِي سَاجِدًا، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الْجُلُوسِ فِي الاِثْنَتَيْنِ، وَيَفْعَلُ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الصَّلاَةِ، ثُمَّ يَقُولُ حِينَ يَنْصَرِفُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَقْرَبُكُمْ شَبَهًا بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِنْ كَانَتْ هَذِهِ لَصَلاَتَهُ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) রমজান মাসের সালাত বা অন্য কোন সময়ের সালাত ফরজ হোক বা অন্য কোন সালাত হোক, দাঁড়িয়ে শুরু করার সময় তাকবির বলতেন, আবার রুকু‘তে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন। তারপর (রুকূ’ থেকে উঠার সময়) 'سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه' বলতেন, সিজ্দায় যাওয়ার পূর্বে 'رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ' বলতেন। অতঃপর সিজদার জন্য অবনত হবার সময় আল্লাহু আকবর বলতেন। আবার সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবির বলতেন। অতঃপর (দ্বিতীয়) সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন এবং সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় তাকবির বলতেন। দু’ রাক’আত আদায় করে দাঁড়ানোর সময় আবার তাকবির বলতেন। সালাত শেষ করা পর্যন্ত প্রতি রাক’আতে এরূপ করতেন।সালাত শেষে তিনি বলতেন, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! তোমাদের মধ্য হতে আমার সালাত আল্লাহর রাসূল (ﷺ)–এর সালাতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। দুনিয়া হতে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নবী (ﷺ)–এর সালাত এ রকমই ছিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৮০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতে তাকবির বলার পদ্ধতি খুব বিস্তারিতভাবে এসেছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) ফরজ হোক বা অন্য সালাত, রমজান হোক বা অন্য সময়—সালাত শুরুতে তাকবির বলতেন। রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন। রুকু থেকে উঠার সময় “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন এবং সিজদায় যাওয়ার আগে “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ” বলতেন। এরপর সিজদায় যাওয়া, সিজদা থেকে উঠা, দ্বিতীয় সিজদায় যাওয়া এবং সেখান থেকে উঠার সময়ও তাকবির বলতেন। দুই রাকাত শেষে দাঁড়ানোর সময়ও তাকবির বলতেন। এই ধারাবাহিকতা সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত চলত। হাদিসের শেষে তিনি বলেন, তাঁর সালাত আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই এই বর্ণনা সহিহ নামাজের পদ্ধতি ও সালাতের তাকবির শেখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের বিভিন্ন অবস্থান বদলের সময় তাকবির বলা বর্ণনায় এসেছে।
- রুকু থেকে উঠার সময় “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলা হয়েছে।
- সিজদার আগে “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ” বলার কথা এসেছে।
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের ধরন সংরক্ষণ করে মানুষকে শেখাতেন।
