১১/২১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯১২ - জুমার আজানের ইতিহাস
জুমু‘আর দিনের আজান।
জুমার আজান: ইমাম মিম্বরে বসা থেকে উসমান (রাঃ)-এর বাড়তি ঘোষণা
সহীহ বুখারী : ৯১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯১২
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ كَانَ النِّدَاءُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوَّلُهُ إِذَا جَلَسَ الإِمَامُ عَلَى الْمِنْبَرِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُ ـ رضى الله عنه ـ وَكَثُرَ النَّاسُ زَادَ النِّدَاءَ الثَّالِثَ عَلَى الزَّوْرَاءِ.
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আবূ বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-এর সময় জুমুআর দিন ইমাম যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন প্রথম আযান দেয়া হত। পরে যখন ‘উসমান (রাঃ) খলীফা হলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি ‘যাওরাহ’ হতে তৃতীয় [১] আযান বৃদ্ধি করেন।
[১] এর পূর্বে কেবল খুত্বার আযান ও ইক্বামাত প্রচলন ছিল। এখানে থেকে তৃতীয় অর্থাৎ সালাতের জন্য বর্তমানে প্রচলিত আযানের প্রচলন শুরু হয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী) (রহঃ) বলেন, ‘যাওরাহ’ হল মাদীনার অদূরে বাজারের একটি স্থান।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার আজানের সময় ও পরে বাড়তি আজানের কারণ বর্ণিত হয়েছে। সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم), আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর সময় ইমাম যখন মিম্বরে বসতেন, তখন জুমার দিনের প্রথম আজান দেওয়া হতো। পরে উসমান (রাঃ)-এর সময়ে লোকসংখ্যা বাড়লে তিনি যাওরা নামক স্থানে তৃতীয় আজান বাড়ান। ইমাম বুখারি (রহঃ) বলেন, যাওরা ছিল মদিনার অদূরের বাজারের একটি স্থান। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, জুমার আজানের বিষয়টি মুসল্লিদের খবর দেওয়ার সাথে যুক্ত ছিল। মানুষের সংখ্যা বাড়লে ঘোষণা পৌঁছানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হাদিসে যা আছে, ব্যাখ্যায় সেটুকুই ধরে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে জুমার আজান ইমাম মিম্বরে বসার সময় দেওয়া হতো।
- লোকসংখ্যা বাড়লে উসমান (রাঃ) বাড়তি আজানের ব্যবস্থা করেন।
- জুমার আজানের উদ্দেশ্য মুসল্লিদের খবর দেওয়া ও জমায়েত সহজ করা।
- ইতিহাস জানা থাকলে জুমার আজান নিয়ে বুঝতে সুবিধা হয়।
