৯/২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৯০ - কাসামা ও রক্তপণ
রক্তপণের দাবী এবং প্রমাণ না থাকলে কসম - ক্বসামার বিধান
কাসামার বিধান: রক্তপণ, কসম ও বিচারিক সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ১১৯০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৯০
عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ, عَنْ رِجَالٍ مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ, أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ ومُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ, فَأُتِيَ مَحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنِ سَهْلِ قَدْ قُتِلَ, وَطُرِحَ فِي عَيْنٍ, فَأَتَى يَهُودَ, فَقَالَ: أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ. قَالُوا: وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ, فَأَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ, فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لَيَتَكَلَّمَ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «كَبِّرْ كَبِّرْ» يُرِيدُ: السِّنَّ, فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ, ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ, وَإِمَّا أَنْ يَأْذَنُوا بِحَرْبٍ». فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ [كِتَابًا]. فَكَتَبُوا: إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ, فَقَالَ لِحُوَيِّصَةَ, وَمُحَيِّصَةُ, وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنَ سَهْلٍ: «أَتَحْلِفُونَ, وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبَكُمْ» قَالُوا: لَا. قَالَ: «فَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ?» قَالُوا: لَيْسُوا مُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - مِنْ عِنْدِهِ, فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَائَةَ نَاقَةٍ. قَالَ سَهْلٌ: فَلَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
সাহ্ল ইব্নু হাসমা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ও তাঁর কওমের কতক বড় বড় ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে, ‘আব্দুল্লাহ্ ইব্নু সাহ্ল ও মুহাইয়াসা ক্ষুধার্ত হয়ে খায়বারে আসেন। একদা মুহাইয়াসা জানতে পারেন যে, ‘আব্দুল্লাহ্ নিহত হয়েছে এবং তাঁর লাশ একটা গর্তে অথবা কূপে ফেলে দেয়া হয়েছে। তখন তিনি ইয়াহূদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! নিঃসন্দেহে তোমরাই তাকে মেরে ফেলেছ। তারা বলল, আল্লাহ্র কসম করে বলছি, আমরা তাকে হত্যা করিনি।তারপর তিনি তার কওমের কাছে এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। পরে তিনি, তার বড় ভাই হওয়াইয়াসা এবং ‘আবদুর রহমান ইবনু সাহ্ল আসলেন। মুহাইয়াসা, যিনি খায়বারে ছিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ ঘটনা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বড়কে কথা বলতে দাও, বড়কে কথা বলতে দাও। এ দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করলেন বয়সে বড়কে। তখন হুওয়াইয়াসা প্রথমে ঘটনা বর্ণনা করলেন। এরপর কথা বললেন, মুহাইয়াসা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হয় তারা তোমাদের মৃত সাথীর রক্তপণ আদায় করবে, না হয় তাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের কাছে এ ব্যাপারে পত্র লিখলেন। জবাবে লেখা হল যে, আমরা তাকে হত্যা করিনি।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুওয়াইয়াসা, মুহাইয়াসা ও ‘আবদুর রহমানকে বললেন, তোমরা কি কসম করে বলতে পারবে? তাহলে তোমরা তোমাদের সঙ্গীর রক্তপণের অধিকারী হবে। তারা বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে ইয়াহূদীরা কি তোমাদের সামনে কসম করবে? তাঁরা বলল, এরা তো মুসলমান না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ হতে একশ’ উট রক্তপণ বাবদ আদায় করে দিলেন। অবশেষে উটগুলোকে ঘরে ঢুকানো হল। সাহ্ল বলেন, ওগুলো থেকে একটা উট আমাকে লাথি মেরেছিল। [১২৯৭]
[১২৯৭] বুখারী ২৭০২,৩১৭৩,৬১৪২,৬৮৯৮,৭১৯২, মুসলিম ১৬৬৯, তিরমিযী ১৪২২, নাসায়ী ৪৭১৩,৪৭১৪,৪৭১৫, আবূ দাউদ ৪৫২০,৪৫২১, ইবনু মাজাহ ২৬৭৭।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে কাসামা, হত্যা-দাবি এবং রক্তপণের বিচারিক ধারা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনু সাহল নিহত হন এবং তাঁর লাশ কূপ বা গর্তে পাওয়া যায়। মুহাইয়াসা ইয়াহূদীদের অভিযুক্ত করেন, কিন্তু তারা কসম করে অস্বীকার করে। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘটনাটি শুনে আগে বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলতে দেন। তিনি রক্তপণ বা যুদ্ধের কথা লিখে পাঠান। পরে দাবিদারদের কসমের সুযোগ দেওয়া হয়; তারা কসম করতে পারেনি। ইয়াহূদীদের কসমের কথাও আসে, কিন্তু সাহাবীরা তা গ্রহণে দ্বিধা করেন। শেষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের পক্ষ থেকে একশ উট রক্তপণ আদায় করেন। মূল কীওয়ার্ড: “কাসামা”, “রক্তপণের দাবি”, “খায়বার হত্যাকাণ্ড”।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে অভিযোগ, কসম ও প্রমাণের গুরুত্ব আছে।
- বয়োজ্যেষ্ঠকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আদব এসেছে।
- রক্তপণ আদায়ের বিষয়টি বিচারিকভাবে দেখা হয়েছে।
