২/৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ২২১ - সালাতে কথা বলা নিষেধ ও নীরবতার শিক্ষা
সালাতের শর্তসমূহ - সালাতে কথা-বার্তা বলার বিধান
সালাতে কথা বলা নিষেধ: একাগ্রতার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ২২১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২২১
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ - رضي الله عنه - قَالَ: إِنْ كُنَّا لَنَتَكَلَّمُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ - ﷺ - يُكَلِّمُ أَحَدُنَا صَاحِبَهُ بِحَاجَتِهِ, حَتَّى نَزَلَتْ: ﴾حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ﴿ [الْبَقَرَة: 238], فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ, وَنُهِينَا عَنِ الْكَلَامِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ) -এর সময়ে সালাতের মধ্যে কথা বলতাম। আমাদের যে কেউ তার সঙ্গীর সাথে নিজ দরকারী বিষয়ে কথা বলত।অবশেষে এ আয়াত নাযিল হল- "তোমরা তোমাদের সালাতসমূহের সংরক্ষণ কর ও নিয়মানুবর্তিতা রক্ষা কর; বিশেষ মধ্যবর্তী (আসর) সালাতে, আর তোমরা (সালাতে) আল্লাহর উদ্দেশে একাগ্রচিত্ত হও"- (সূরা আল-বাকারাহ ২/২৩৮)।অতঃপর আমরা সালাতে নীরব থাকতে আদেশপ্রাপ্ত হলাম এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলা নিষিদ্ধ হয়ে গেল। শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। [২৫৫]
[২৫৫] বুখারী ১২০০; মুসলিম ৫৩৯
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ২২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতে কথা বলা নিষেধ হওয়ার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে এসেছে। সাহাবীরা শুরুতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সময়ে সালাতের মধ্যে নিজেদের দরকারি কথা বলতেন। পরে সূরা আল-বাকারাহর আয়াত নাযিল হয়, যেখানে সালাত সংরক্ষণ, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের প্রতি যত্ন এবং আল্লাহর উদ্দেশে একাগ্রভাবে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এরপর তাদেরকে সালাতে নীরব থাকতে আদেশ করা হয় এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাত শুধু শরীরের কাজ নয়; এতে মন, ভাষা ও আচরণও নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। সালাতে নীরবতা, একাগ্রতা এবং আল্লাহর সামনে বিনয় ধরে রাখা মুসল্লির জন্য বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- সালাতের সময় মনোযোগ ও নীরবতা রক্ষা করা জরুরি।
- কুরআনের নির্দেশ আসার পর সাহাবীরা তা মেনে নিয়েছেন।
- আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় একাগ্রতা বজায় রাখা উচিত।
