৭/৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৪৩ - ঘুষ দাতা ও গ্রহীতার ভয়াবহ পরিণতি
সুদ - ঘুষের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
ঘুষ হারাম: ঘুষ দাতা ও গ্রহীতার জন্য কঠোর সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ৮৪৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮৪৩
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ -رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِيَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُ
আবদুল্লাহ বিন্ ‘আম্র বিন্ আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন। - তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। [৮৯৯]
[৮৯৯] আবূ দাউদ ৩৫৮০, তিরমিযী ১৩৩৭, ইবনু মাজাহ ২৩১৩, আহমাদ ৬৪৯৬, ৬৭৯১।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুষ দাতা ও ঘুষ গ্রহীতা—উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন। কথাটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু শিক্ষা খুব গভীর। ঘুষ শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়; এটি ন্যায়, আমানত ও মানুষের অধিকারকে নষ্ট করে। যে ব্যক্তি ঘুষ দেয়, সে অন্যায়ভাবে নিজের সুবিধা নিতে পারে। আর যে ঘুষ নেয়, সে নিজের দায়িত্ব ও ন্যায়বোধকে বিক্রি করে ফেলে। হাদিসে দু’পক্ষকেই সতর্ক করা হয়েছে, কারণ ঘুষের লেনদেন সাধারণত দু’জনের অংশগ্রহণেই ঘটে। তাই ইসলামে ঘুষ দাতা ও গ্রহীতা—কারও জন্যই নিরাপদ পথ নয়। মুসলিমের উচিত বৈধ উপায়, সত্য কথা এবং ন্যায্য অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুষ দেওয়া ও ঘুষ নেওয়া—দুটিই গুরুতর অন্যায়।
- ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য ঘুষ থেকে দূরে থাকা দরকার।
- দায়িত্বের জায়গায় ঘুষ গ্রহণ আমানতের খিয়ানত হতে পারে।
- বৈধ উপায়ে কাজ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
