১/১. অধ্যায়ঃ
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ৪ - মসজিদে কথা বলা নিয়ে ভিত্তিহীন হাদিস
১ থেকে ১০০ নং হাদিস
মসজিদে কথা বলা নিয়ে ভিত্তিহীন হাদিসের সতর্কতা
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ : ৪
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজহাদিস নম্বর ৪
الحديث فى المسجد يأكل الحسنات كما تأكل البهائم الحشيش لا أصل له-أورده الغزالي في " الإحياء " (1 / 136) فقال مخرجه الحافظ العراقي: لم أقف له على أصل وبيض له الحافظ في " تخريج الكشاف " (73 / 95 و130 / 176) وقال عبد الوهاب بن تقى الدين السبكي في " طبقات الشافعية " (4 / 145 - 147) : لم أجد له إسناداوالمشهور على الألسنة: " الكلام المباح في المسجد يأكل الحسنات كما تأكل النار الحطب " وهو هوالحديث فى المسجد ياكل الحسنات كما تاكل البهاىم الحشيش لا اصل له-اورده الغزالي في " الاحياء " (1 / 136) فقال مخرجه الحافظ العراقي: لم اقف له على اصل وبيض له الحافظ في " تخريج الكشاف " (73 / 95 و130 / 176) وقال عبد الوهاب بن تقى الدين السبكي في " طبقات الشافعية " (4 / 145 - 147) : لم اجد له اسناداوالمشهور على الالسنة: " الكلام المباح في المسجد ياكل الحسنات كما تاكل النار الحطب " وهو هو
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
মসজিদের মধ্যে কথপোকথন পূণ্যগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে চতুষ্পদ জন্তুগুলো ঘাস খেয়ে ফেলে।হাদীসটি ভিত্তিহীন।গাযালী এটি “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (১/১৩৬)। অথচ তার কোন ভিত্তি নেই।হাফিয ইরাকী বলেন : তার কোন ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত হইনি।হাফিস ইবনু হাজার “তাখরীজুল কাশ্শাফ” গ্রন্থে ভিত্তি না থাকাকে (৭৩/৯৫, ১৩০/১৭৬) আরো সুষ্পষ্ট করেছেন।আব্দুল ওয়াহাব সুবকী “তাবাকাতুশ-শাফে’ঈয়াহ” গ্রন্থে (৪/১৪৫-১৪৭) বলেছেন: তার কোন সনদ পাইনি।লোকদের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, মসজিদের মধ্যে বৈধ কথা সৎ কর্মগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে খড়িকে আগুন খেয়ে ফেলে।এটি ও উপরেরটির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, মসজিদের মধ্যে কথোপকথন সৎ কাজগুলোকে খেয়ে ফেলে, যেমন পশু ঘাস খায়। প্রদত্ত লেখায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই। গাযালী এটি “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করলেও হাফিয ইরাকী, ইবনু হাজার এবং সুবকী এর কোনো সনদ পাননি বলে আলোচনা এসেছে। তাই “মসজিদে কথা বলা নেকি খায়” কথাটি হাদিস হিসেবে বলা নিরাপদ নয়। অবশ্য মসজিদের আদব রক্ষা করা জরুরি—এটি সাধারণ ইসলামী শিক্ষা। কিন্তু এই নির্দিষ্ট বাক্যকে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নামে বলা যাবে না। মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথা, বাজারের মতো হৈচৈ বা অন্যের ইবাদতে বাধা দেওয়া ভালো নয়—এ কথা বোঝানো যায়; তবে ভিত্তিহীন হাদিস দিয়ে নয়। একজন সচেতন মুসলিমের কাজ হলো মসজিদের সম্মান রাখা এবং একই সঙ্গে হাদিস যাচাই করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদের আদব রক্ষা করতে হবে, তবে ভিত্তিহীন হাদিস দিয়ে নয়।
- কোনো গ্রন্থে থাকা মানেই বর্ণনাটি সহীহ—এমন নয়।
- সনদ না থাকলে হাদিস হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
- মসজিদে কথা বলার বিষয়ে ভারসাম্য রাখা দরকার।
