৯/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৫০ - দুই বোনকে একসাথে বিবাহের নিষেধ
কারো বিবাহ বন্ধনে দু’ (সহোদর) বোন থাকা অবস্থায় সে ইসলাম গ্রহণ করলে।
একসাথে দুই বোনকে বিবাহ: ইসলামী নির্দেশনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৫০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৫০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ عَنْ أَبِي وَهْبٍ الْجَيْشَانِيِّ عَنْ أَبِي خِرَاشٍ الرُّعَيْنِيِّ عَنْ الدَّيْلَمِيِّ قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَعِنْدِي أُخْتَانِ تَزَوَّجْتُهُمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَال إِذَا رَجَعْتَ فَطَلِّقْ إِحْدَاهُمَا
আদ-দায়লামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমার নিকট দু’ (সহোদর) বোন ছিলো, যাদেরকে আমি জাহিলী যুগে একত্রে বিবাহ করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে তাদের একজনকে তালাক দিয়ে পৃথক করে দাও।
[১৯৫০] তিরমিযী ১১২৯, আবূ দাউদ ২২৪৩, বায়হাকী ৭/১২৭। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ইসহাক বিন আবদুল্লাহ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল জুরজানী বলেন, তার সানাদ মা মাতান কোনটিরই কেউ অনুসরণ করেননি। আবু বকর আল বুরকানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাতরুক বা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু বকর আল-বাযযার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু ইয়ালা আল খালীলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৭, ২/৪৪৬ নং পৃষ্ঠা) ২. আবু খিরাশ আর-রুকায়নী সম্পর্কে ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম যাহাবী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে জানা যায় না। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৩৪০, ৩৩/২৭৮ নং পৃষ্ঠা) উক্ত হাদিসটি হাসান কিন্তু ইসহাক বিন আবদুল্লাহ ও আবু খিরাশ আর-রুকায়নী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৮৫ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে ১ টি জাল, ১৬ টি অধিক দুর্বল, ১৮ টি দুর্বল, ৩৭ টি হাসান, ১৩ টি সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ তিরমিযি ১১২৯, ১১৩০, আবু দাউদ ২২৪৩, আহমাদ ১৭৫৭৯, ১৭৫৮০, দারাকুতনী ৩৬৫৩, ৩৬৫৪, ৩৬৫৬, ৩৬৫৭, ৩৬৫৮, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১২৬২৭ ইত্যাদি।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আসেন। তাঁর কাছে দুই সহোদরা বোন স্ত্রী হিসেবে ছিল, যাদের তিনি জাহিলি যুগে একসাথে বিবাহ করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, ফিরে গিয়ে তাদের একজনকে তালাক দিয়ে পৃথক করে দাও। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ইসলাম গ্রহণের পর পুরনো ভুল সম্পর্ক বা জাহিলি যুগের নিয়মকে চলতে দেওয়া হয়নি। বিবাহের ক্ষেত্রে আত্মীয়তার সীমা ও বৈধতা গুরুত্বপূর্ণ। দুই বোনকে একসাথে স্ত্রী হিসেবে রাখা ইসলামে অনুমোদিত নয়—এই বর্ণনায় তা সরাসরি বোঝা যায়। তবে হাদিসে শুধু একজনকে পৃথক করার নির্দেশ এসেছে; অতিরিক্ত বিবরণ এখানে নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একসাথে দুই সহোদরা বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখা বৈধ রাখা হয়নি।
- ইসলাম গ্রহণের পর বিবাহ সম্পর্ককেও শুদ্ধ করতে হয়।
- পুরনো প্রথা যদি ইসলামী নির্দেশনার বিপরীত হয়, তা সংশোধন করতে হয়।
