১০/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৬৭ - হিলাল বিন উমাইয়ার লি‘আন
লিআন ( অভিশাপযুক্ত শপথ)।
হিলাল বিন উমাইয়া (রাঃ)-এর ঘটনা: লি‘আনের আয়াত ও সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৬৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৬৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ بِشَرِيكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ الْبَيِّنَةَ أَوْ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ فَقَالَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنِّي لَصَادِقٌ وَلَيُنْزِلَنَّ اللهُ فِي أَمْرِي مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي قَالَ فَنَزَلَتْ ﴾وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ حَتَّى بَلَغَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ} فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَجَاءَا فَقَامَ هِلَالُ بْنُ أُمَيَّةَ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ إِنَّ اللهَ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْ تَائِبٍ ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ الْخَامِسَةِ ﴾أَنَّ غَضَبَ اللهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ} قَالُوا لَهَا إِنَّهَا لَمُوجِبَةٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَصَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهَا سَتَرْجِعُ فَقَالَتْ وَاللهِ لَا أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ انْظُرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الْأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ ابْنِ سَحْمَاءَ فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَوْلَا مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হিলাল বিন উমাইয়্যা (রাঃ) তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) এর নিকট শরীক বিন সাহমার সাথে যেনায় লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রমাণ পেশ করো অন্যথায় তোমার পিঠে হদ্দ কার্যকর হবে। হেলাল বিন উমাইয়্যা (রাঃ) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন। আমি অবশ্যই সত্যবাদী এবং আল্লাহ্ আমার অভিযোগের ব্যাপারে এমন বিধান নাযিল করবেন, যা আমার পিঠকে হদ্দ থেকে রক্ষা করবে।তখন এই আয়াত নাযিল হলো (অনুবাদ) “ আর যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি যেনার অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই, তাদের প্রত্যেকের সাক্ষ্য এই হবে যে, সে আল্লাহ্র নামে চারবার শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবারে বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহ্র লানত” (সূরা নূরঃ ৬৭)।নবী (ﷺ) মুখ ফিরিয়ে তাদের দু’জনকে ডেকে পাঠান। তারা উপস্থিত হলে প্রথমে হেলাল বিন উমাইয়্যা (রাঃ) দাঁড়িয়ে শপথ করেন এবং নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ অবশ্যই জানেন যে, তোমাদের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। অতএব কেউ তওবা করবে কি? অতঃপর স্ত্রীলোক দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলো। পঞ্চমবারে সে যখন বলতে যাচ্ছিল যে, সে (স্বামী) সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর আল্লাহ্র গযব পতিত হোক, তখন লোকেরা তাকে বলল, এটি কিন্তু অবধারিতকারী বাক্য।বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন, সেই নারী তখন আর কিছু না বলে থেমে গিয়ে পিছনে হটে গেলো। শেষে আমরা মনে করলাম সে হয়তো ফিরে যাবে (বিরত থাকবে)। কিন্তু সে বললো, আল্লাহ্র শপথ! আমি আমার সম্প্রদায়কে চিরদিনের জন্য কালিমালিপ্ত করতে পারি না। নবী (ﷺ) বলেন, তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য রেখো। সে যদি সুরমাদীপ্ত চোখ, মাংসল নিতম্ব ও মাংসল পদযুগলবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তবে এটি শরীক বিন সাহমার। অতঃপর সে এই ধরণের সন্তানই প্রসব করলো। তখন নবী (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্র কিতাবে আগেই যদি (লিআনকারীর) বিধান না দেয়া থাকতো, তাহলে তার ও আমার মধ্যে কিছু একটা ঘটে যেতো (তাকে শাস্তি দিতাম)।
[২০৬৭] সহীহুল বুখারী ২৬৭১, ৪৭৪৭, ৫৩০৭, তিরমিযী ৩১৭৯, আবূ দাউদ ২২৫৪, ২২৫৫, ২২৫৬, আহমাদ ২৪৬৪, ইরওয়াহ ২০৯৮, সহীহ আবী দাঊদ ১৯৫১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হিলাল বিন উমাইয়া (রাঃ) তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে শরীক বিন সাহমা’র সাথে যেনার অভিযোগ আনেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে বলেন, প্রমাণ পেশ করো, অন্যথায় তোমার পিঠে হাদ্দ কার্যকর হবে। হিলাল (রাঃ) নিজের সত্যতার কথা বলেন এবং আশা করেন আল্লাহ তাঁর বিষয়ে বিধান নাজিল করবেন। এরপর সূরা নূরের লি‘আন সম্পর্কিত আয়াত নাজিল হয়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم স্বামী-স্ত্রী উভয়কে ডাকেন এবং তারা শপথ করে। নবী صلى الله عليه وسلم বারবার বলেন, আল্লাহ জানেন তোমাদের একজন মিথ্যাবাদী, কেউ কি তওবা করবে? হাদিসটি লি‘আনের ভয়াবহতা, মিথ্যা অভিযোগের ঝুঁকি এবং আল্লাহর নামে শপথের গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যেনার অভিযোগ প্রমাণ ছাড়া করা খুব গুরুতর বিষয়।
- লি‘আনের শপথে আল্লাহর নামে সত্য-মিথ্যার ভার থাকে।
- নবী صلى الله عليه وسلم তওবার সুযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
- শরিয়তের বিধান থাকলে ব্যক্তিগত ধারণা দিয়ে শাস্তি দেওয়া যায় না।
