৩৬/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৫৬ - ফিতনার সময় ঈমান ও ভালো আচরণ
যেসব বিপর্যয় সংঘটিত হবে
ফিতনার যুগে বাঁচার শিক্ষা: ঈমান, আখেরাত ও মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩৯৫৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩৯৫৬
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ وَالنَّاسُ مُجْتَمِعُونَ عَلَيْهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فِي سَفَرٍ إِذْ نَزَلَ مَنْزِلاً فَمِنَّا مَنْ يَضْرِبُ خِبَاءَهُ وَمِنَّا مَنْ يَنْتَضِلُ وَمِنَّا مَنْ هُوَ فِي جَشَرِهِ إِذْ نَادَى مُنَادِيهِ الصَّلاَةُ جَامِعَةٌ فَاجْتَمَعْنَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ فَخَطَبَنَا فَقَالَ " إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلاَّ كَانَ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى مَا يَعْلَمُهُ خَيْرًا لَهُمْ وَيُنْذِرَهُمْ مَا يَعْلَمُهُ شَرًّا لَهُمْ وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَتْ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَإِنَّ آخِرَهُمْ يُصِيبُهُمْ بَلاَءٌ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا ثُمَّ تَجِيءُ فِتَنٌ يُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي ثُمَّ تَنْكَشِفُ ثُمَّ تَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي . ثُمَّ تَنْكَشِفُ فَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ فَلْتُدْرِكْهُ مَوْتَتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يَأْتُوا إِلَيْهِ وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَمِينِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الآخَرِ».قَالَ فَأَدْخَلْتُ رَأْسِي مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَقُلْتُ أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ ﷺ ـ قَالَ فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي .
আবদুর রহমান বিন আবদে রব্বিল কা‘বাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর নিকট পৌঁছে দেখলাম, তিনি কাবা ঘরের ছায়ায় উপবিষ্ট এবং তাঁর চারপাশে জনতার ভিড়। আমি তাঁকে বলতে শুনলাম, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলেন। আমাদের কেউ তাঁবু টানাচ্ছিলাম, কেউ তীর-ধনুক ঠিক করছিলো এবং কেউ পশুপাল চরাতে গেলো। এই অবস্থায় তাঁর মুয়াজ্জিন সালাতের জন্য সমবেত হতে ডাক দিলেন।আমরা সমবেত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে আমাদের উদ্দেশ্যে বলেনঃ আমার পূর্বে যে নবীই অতিক্রান্ত হয়েছেন, তিনিই তাঁর উম্মাতের জন্য কল্যাণকর বিষয় বলে দিয়েছেন এবং তাদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়ে লিপ্ত হতে তাদের নিষেধ করেছেন। আর তোমাদের এই উম্মাতের প্রথম পর্যায়ে রয়েছে নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যায়ে বালা-মুসীবত আসতে থাকবে এবং তোমাদের জ্ঞাত অন্যায় কার্যকলাপের প্রসার ঘটবে। তারপর এমনভাবে বিপদ আসতে থাকবে যে, একটি অপরটির (পরেরটির) চেয়ে লঘুতর মনে হবে। মুমিন ব্যক্তি বলতে থাকবে, এই বিপদে আমার ধ্বংস অনিবার্য।অতঃপর সে বিপদ কেটে যাবে এবং আরেকটি বিপদ এসে পতিত হবে। তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, হায়! এ বিপদে আমার ধ্বংস অনিবার্য। অতঃপর সেই বিপদও দূরীভূত হবে। অতএব যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে নাজাত পেয়ে এবং জান্নাতে প্রবেশ লাভ করে আনন্দিত হতে চায় সে যেন আল্লাহর প্রতি ও আখেরাত দিবসের প্রতি ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং লোকেদের সাথে এমন ব্যবহার করে, যেমনটি সে নিজের জন্য কামনা করে। যে ব্যক্তি ইমামের নিকট আনুগত্যের বায়আত করলো এবং প্রতিশ্রুতি দিলো, সে যেন যথাসাধ্য তাঁর আনুগত্য করে। পরে অপর কেউ নেতৃত্ব দখলে তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলে এই শেষোক্ত জনকে হত্যা করো।আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি (একথা শুনে) লোকেদের ভিড় থেকে আমার মাথা বের করলাম এবং আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এ হাদীস শুনেছেন? তিনি তাঁর হাত দ্বারা তাঁর দু’ কানের দিকে ইশারা করে বলেন, আমার দু’ কান তাঁর নিকট এ হাদীস শুনেছে এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে।
[৩২৮৮] মুসলিম ১৮৪৪, নাসায়ী ৪১৯১, আবূ দাঊদ ৪২৪৮, আহমাদ ৬৪৬৫, ৬৭৫৪। সহীহাহ ২৪১।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩৯৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আগের প্রত্যেক নবী তাঁর উম্মতকে কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন এবং ক্ষতিকর বিষয় থেকে সতর্ক করেছেন। এরপর তিনি বলেন, এই উম্মতের প্রথম অংশে নিরাপত্তা থাকবে, আর শেষ অংশে বালা-মুসিবত ও অচেনা অন্যায় কাজ আসবে। একের পর এক ফিতনা আসবে, এমনকি মুমিন ভাববে এ বিপদেই তার ধ্বংস। তারপর সেই ফিতনা কেটে যাবে এবং আরেকটি আসবে। এরপর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে—যে জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে ও জান্নাতে যেতে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমানদার অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে এবং মানুষের সাথে এমন ব্যবহার করে, যেমন আচরণ সে নিজের জন্য পছন্দ করে। হাদিসে ইমামের আনুগত্যের বিষয়ও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফিতনার সময় ঈমান ও আখেরাতের বিশ্বাস ধরে রাখা জরুরি।
- মানুষের সাথে সেই আচরণ করা উচিত, যা নিজের জন্য পছন্দ করি।
- একটির পর আরেকটি ফিতনা আসতে পারে—সতর্কতা দরকার।
- বায়আত ও আনুগত্যের বিষয় হাদিসে গুরুত্বসহ এসেছে।
