৩৭/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১০৪ - মুসাফিরের পাথেয় ও দুনিয়ার সংযম

দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি

মুসাফিরের পাথেয়: সংযমী জীবনের হাদিস

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪১০৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ اشْتَكَى سَلْمَانُ فَعَادَهُ سَعْدٌ فَرَآهُ يَبْكِي فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ مَا يُبْكِيكَ يَا أَخِي أَلَيْسَ قَدْ صَحِبْتَ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ أَلَيْسَ أَلَيْسَ قَالَ سَلْمَانُ مَا أَبْكِي وَاحِدَةً مِنَ اثْنَتَيْنِ مَا أَبْكِي صَبًّا لِلدُّنْيَا وَلاَ كَرَاهِيَةً لِلآخِرَةِ وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ عَهِدَ إِلَىَّ عَهْدًا فَمَا أُرَانِي إِلاَّ قَدْ تَعَدَّيْتُ .قَالَ وَمَا عَهِدَ إِلَيْكَ قَالَ عَهِدَ إِلَىَّ أَنَّهُ يَكْفِي أَحَدَكُمْ مِثْلُ زَادِ الرَّاكِبِ وَلاَ أُرَانِي إِلاَّ قَدْ تَعَدَّيْتُ وَأَمَّا أَنْتَ يَا سَعْدُ فَاتَّقِ اللَّهَ عِنْدَ حُكْمِكَ إِذَا حَكَمْتَ وَعِنْدَ قَسْمِكَ إِذَا قَسَمْتَ وَعِنْدَ هَمِّكَ إِذَا هَمَمْتَ .قَالَ ثَابِتٌ فَبَلَغَنِي أَنَّهُ مَا تَرَكَ إِلاَّ بِضْعَةً وَعِشْرِينَ دِرْهَمًا مِنْ نَفَقَةٍ كَانَتْ عِنْدَهُ .

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সালমান (রাঃ) অসুস্থ হয়ে পড়লে সা’দ (রাঃ) তাঁকে দেখতে যান। তিনি তাঁকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করেন, হে ভাই! আপনি কাঁদছেন কেন? আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহচর্য লাভ করেননি? আপনি কি এই এই (ভালো কাজ) করেননি। সালমান (রাঃ) বলেন, আমি এই দু’টির কোনটির জন্যই কাঁদছি না। আমি দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার আক্ষেপে বা আখেরাতের পরিণতির আশংকায় কাঁদছি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু মনে হয় আমি তাতে সীমালঙ্ঘন করেছি।সা’দ (রাঃ) বলেন, তিনি আপনার থেকে কী প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন? সালমান (রাঃ) বলেন, তিনি এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, “তোমাদের যে কোন ব্যক্তির একজন পর্যটকের সমপরিমাণ পাথেয় যথেষ্ট”। কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি যে, আমি সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছি। হে ভাই সা’দ! যখন তুমি বিচার মীমাংসা করবে, ভাগ-বাঁটোয়ারা করবে এবং কোন কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করবে তখন আল্লাহকে ভয় করবে। সাবিত (রহঃ) বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, (মৃত্যুর সময়) সালমান (রাঃ) তাঁর ভরণপোষণের জন্য সঞ্চিত মাত্র বিশাধিক দিরহাম রেখে যান।

[৩৪৩৬] হাদীসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। উক্ত হাদীসের রাবী জা’ফার বিন সুলায়মান সম্পর্কে আবূ আহমাদ আল-হাকিম বলেন, আমি আশা করি তার মাঝে কোন সমস্যা নেই। আবূ বাকর আল-বাযযার বলেন, তার দোষত্রুটি সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে শুনিনি। আবূ বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ তবে শিয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শিয়া মতাবলম্বী। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৯৪৩, ৫/৪৩ নং পৃষ্ঠা)

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪১০৪-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় সালমান রাঃ অসুস্থ অবস্থায় কাঁদছিলেন। তিনি দুনিয়া ছাড়ার দুঃখে বা আখিরাতের ভয়েই কাঁদছিলেন না। তিনি কাঁদছিলেন কারণ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তার কাছ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন, আর তার মনে হচ্ছিল তিনি হয়তো সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। প্রতিশ্রুতিটি ছিল, মানুষের জন্য একজন পথিকের পাথেয়ের মতো সামান্য জিনিসই যথেষ্ট। এরপর তিনি সা’দ রাঃ-কে বিচার, ভাগ-বাঁটোয়ারা ও কাজের সিদ্ধান্তে আল্লাহকে ভয় করার কথা বলেন। হাদিসের শেষ অংশে দেখা যায়, সালমান রাঃ মৃত্যুর সময় খুব সামান্য সঞ্চয় রেখে যান। তাই এই হাদিস সংযম, আত্মপরীক্ষা ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দুনিয়ার প্রয়োজনকে মুসাফিরের পাথেয়ের মতো সীমিত ভাবা শেখা যায়।
  • নিজের আমল নিয়ে আত্মসমালোচনা করা সাহাবীদের বড় গুণ ছিল।
  • বিচার ও ভাগ-বাঁটোয়ারার সময় আল্লাহকে ভয় করা জরুরি।
  • সংযমী জীবন মানুষকে দুনিয়ার ভার থেকে হালকা রাখে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন