১/৬৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৮২ - লজ্জাস্থান স্পর্শ ও পবিত্রতা
লিঙ্গ স্পর্শ করলে উযু করতে হবে কিনা
লজ্জাস্থান স্পর্শের পর ওযু: সালাতের আগে সতর্কতা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪৮২
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৪৮২
حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ ﷺ ـ يَقُولُ «مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ " .
আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করলো সে যেন ওযু করে।
[৪৮০] সহীহ লিগাইরিহী। উক্ত হাদীসের রাবী১. সুফইয়ান বিন ওয়াকী সম্পর্কে ইমাম বুখারী (রহঃ) মন্তব্য করেছেন। ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন, তিনি সিকাহ নন। ইবনু হিব্বান (রহঃ) তিনি সত্যবাদী।২. ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহ সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, আমার মতে তার থেকে হাদীস বর্ণনা করা বৈধ নয়। ইয়াহইয়া বিন মাঈন (রহঃ) বলেন, তিনি সিকাহ নন বরং তিনি মিথ্যুক। আলী ইবনুল মাদীনী (রহঃ) বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় মুনকার। আমর বিন ফাল্লাস (রহঃ) বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন তাকে সকলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী (রহঃ) বলেন, তার হাদীস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। উক্ত হাদীসটি শাহিদ এর ভিত্তিতে সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৪৮২-এর সারসংক্ষেপ
আবূ আইউব (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদিসে একই মূল নির্দেশ এসেছে—যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করলো, সে যেন ওযু করে। এই কথাটি পবিত্রতা অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ। হাদিসে কোনো লম্বা ঘটনা নেই, তাই মূল শিক্ষা হলো: ওযু ও সালাতের প্রস্তুতিকে হালকাভাবে না নেওয়া। একজন মানুষ দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় এমন স্পর্শের মুখোমুখি হতে পারে; তখন হাদিসের নির্দেশ মনে রাখা দরকার। “লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযু” এবং “লিঙ্গ স্পর্শ করলে অজু” ধরনের সার্চ টার্ম এই হাদিসের সঙ্গে সরাসরি মিলে যায়। ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফিকহি বিস্তারিত না এনে, বর্ণিত নির্দেশকে সহজভাবে বোঝাই নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লজ্জাস্থান স্পর্শের পর ওযুর নির্দেশ সরাসরি এসেছে।
- সালাতের আগে পবিত্রতা নিয়ে সচেতন থাকা দরকার।
- সংক্ষিপ্ত হাদিস থেকেও দৈনন্দিন আমলের দিকনির্দেশনা মেলে।
