২৫/০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৫২ - ওসিয়ত লিখে রাখার গুরুত্ব
অসিয়াত
ওসিয়ত লিখে রাখা: মুসলিমের সম্পদ বিষয়ে সচেতনতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৫২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৫২
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَا حَقُّ امْرِىءٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَيْءٌ يُوصِي فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় যে, তার অসীয়াতযোগ্য কিছু (সম্পদ) রয়েছে, সে দুইরাত কাটাবে অথচ তার নিকট তার অসীয়াত লিখিত থাকবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৫ : ওয়াসিয়াত, অধ্যায় ১, হাঃ ২৭৩৮; মুসলিম, পর্ব ২৫: অসীয়ত, অধ্যায় আউয়ালুল কিতাব, হাঃ ১৬২৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওসিয়ত লিখে রাখার গুরুত্ব এসেছে। আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো মুসলিম ব্যক্তির কাছে ওসিয়তযোগ্য কিছু থাকলে, তার জন্য ঠিক নয় যে সে দুই রাত কাটাবে অথচ তার কাছে ওসিয়ত লিখিত থাকবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো দায়িত্বশীলতা। মানুষ কখন মারা যাবে জানে না, তাই সম্পদ, দেনা, পাওনা বা ওসিয়তযোগ্য বিষয় থাকলে তা পরিষ্কারভাবে লিখে রাখা দরকার। হাদিসে “দুই রাত” শব্দটি সতর্কতার ভাষা হিসেবে এসেছে। “ওসিয়ত লিখে রাখা”, “ইসলামে ওসিয়ত” এবং “ওসিয়তযোগ্য সম্পদ” এই হাদিসের প্রধান কীওয়ার্ড। হাদিসটি ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং প্রস্তুত থাকার শিক্ষা দেয়। এতে পরিবারে বিভ্রান্তি কমার পথও আছে, কারণ লিখিত ওসিয়ত বিষয়কে স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওসিয়তযোগ্য সম্পদ থাকলে তা লিখে রাখা উচিত।
- মৃত্যু অনিশ্চিত, তাই সম্পদ বিষয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি দরকার।
- লিখিত ওসিয়ত পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- মুসলিমের জীবনে আর্থিক দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ।
