২৭/১২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৩ - অংশ আযাদ করলে পূর্ণ মুক্তির দায়িত্ব
যৌথ মালিকানাভুক্ত গোলামকে যে স্বীয় অংশ হতে মুক্ত করে দেয়।
দাসমুক্তির ন্যায়নীতি: অংশ আযাদ করলে কী দায়িত্ব আসে
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৮৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮৩
حديث أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، عَنِ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا مِنْ مَمْلُوكِهِ، فَعَلَيْهِ خَلاَصُهُ فِي مَالِهِ؛ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ قُوِّمَ الْمَمْلُوكُ قِيمَةَ عَدْلٍ ثُمَّ اسْتُسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, কেউ তার (শরীক) গোলাম হতে অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জনে যেতে হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৭: অংশীদারিত্ব, অধ্যায় ৫, হাঃ ২৪৯২; মুসলিম, পর্ব ২৭ : কসম, অধ্যায় ১২, হাঃ ১৫০১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরীকী গোলামকে আযাদ করার বিষয়ে আরেকটি দিক পরিষ্কার করা হয়েছে। কেউ যদি নিজের মালিকানাধীন অংশ আযাদ করে দেয়, তাহলে তার দায়িত্ব হয় নিজের অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। কিন্তু যদি তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর অন্য অংশের মূল্য পরিশোধের জন্য তাকে উপার্জনে যেতে বলা হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না। এই হাদিস দাসমুক্তির মধ্যে ন্যায়, সামর্থ্য ও মানুষের সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। ভালো কাজের পথ খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু কাউকে অসহনীয় চাপ দিয়ে নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আংশিক আযাদ করলে সামর্থ্য অনুযায়ী পূর্ণ মুক্তির দায়িত্ব আসে।
- ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা বিচার ও অধিকার রক্ষার অংশ।
- উপার্জনের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
- ইসলামী বিধানে সামর্থ্য ও ন্যায়—দুটো বিষয়ই বিবেচনায় থাকে।
