২৭/১২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮২ - শরীকী ক্রীতদাস মুক্তির ন্যায্য বিধান
যৌথ মালিকানাভুক্ত গোলামকে যে স্বীয় অংশ হতে মুক্ত করে দেয়।
দাসমুক্তি ও ন্যায্য মূল্য: শরীকী ক্রীতদাস নিয়ে হাদিসের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১০৮২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১০৮২
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ، فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ، قُوِّمَ الْعَبْدُ قِيمَةَ عَدْلٍ، فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ، وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি কোন ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৪৯ ক্রীতদাস আযাদ করা, অধ্যায় ৪, হাঃ ২৫২২; মুসলিম, পর্ব ২৭: কসম, অধ্যায় ১২, হাঃ ১৫০১
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১০৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দাসমুক্তি বা ক্রীতদাস আযাদ করার একটি নির্দিষ্ট বিধান এসেছে। কেউ যদি যৌথ মালিকানার ক্রীতদাসের নিজের অংশ মুক্ত করে এবং তার কাছে পুরো ক্রীতদাসের মূল্য দেওয়ার মতো অর্থ থাকে, তাহলে সে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করবে। এরপর অন্য শরীকদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে। এতে ক্রীতদাসটি তার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি তার কাছে যথেষ্ট অর্থ না থাকে, তাহলে যতটুকু অংশ সে মুক্ত করেছে, ততটুকুই মুক্ত হবে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, নেক কাজ করলেও অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না। মুক্তির কাজের সাথে ন্যায়, হিসাব ও শরীকদের অধিকার রক্ষা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকী সম্পদে সিদ্ধান্ত নিলে অন্য অংশীদারের হক মানতে হয়।
- দাসমুক্তির মতো ভালো কাজেও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ জরুরি।
- অর্থ থাকলে পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া উচিত।
- অর্থ না থাকলে দায়িত্ব নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সীমিত থাকে।
