৩২/৩৯. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৭৩ - তায়িফের কষ্টে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া

নবী (ﷺ) মুশরিক ও মুনাফিকদের নিকট থেকে যে দুঃখকষ্ট পেয়েছেন।

তায়িফের দুঃখ ও দয়া: আখশাবাইন চাপিয়ে না দেওয়ার হাদিস

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১১৭৩

حديث عَائِشَةَ، زَوْجِ النَبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ قَالَ: لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ مَا لَقِيتُ، وَكَانَ أَشَدُّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْعَقَبَةِ، إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِي عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلاَلٍ فَلَمْ يُجِبْنِي إِلَى مَا أَرَدْتُ فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلَى وَجْهِي، فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلاَّ وَأَنَا بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ، فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِي، فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ، [ص: 228] فَنَادَانِي فَقَالَ: إِنَّ اللهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ، وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ فَنَادَانِي مَلَكُ الْجِبَالِ فَسَلَّمَ عَلَيَّ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ فَقَالَ ذَلِكَ فِيمَا شِئْتَ إِنْ أُطَبِّقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ؛ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أَصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ، لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার তিনি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, উহুদের দিনের চেয়ে কঠিন কোন দিন কি আপনার উপর এসেছিল? তিনি বললেন, আমি তোমার কাওম নিকট হতে যে বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তা তো হয়েছি। তাদের নিকট হতে অধিক কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, ‘আকাবার দিন যখন আমি নিজেকে ইব্‌নু ‘আবদে ইয়ালীল ইব্‌নু ‘আবদে কুলালের নিকট পেশ করেছিলাম। আমি যা চেয়েছিলাম, সে তার জবাব দেয়নি। তখন আমি এমনভাবে বিষণ্ণ চেহারা নিয়ে ফিরে এলাম যে, 'কারনুস সাআলিব'-এ পৌঁছা পর্যন্ত আমার চিন্তা দূর হয়নি।তখন আমি মাথা উপরে উঠালাম। হঠাৎ দেখতে পেলাম এক টুকরো মেঘ আমাকে ছায়া দিচ্ছে। আমি সে দিকে তাকালাম। তার মধ্যে ছিলেন জিবরীল (আঃ)। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, আপনার কাওম আপনাকে যা বলেছে এবং তারা উত্তরে যা বলেছে তা সবই আল্লাহ শুনেছেন। তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন। এদের সম্পর্কে আপনার যা ইচ্ছে আপনি তাঁকে হুকুম দিতে পারেন।তখন পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে ডাকলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মদ (ﷺ)! এসব ব্যাপার আপনার ইচ্ছাধীন। আপনি যদি চান, তাহলে আমি তাদের উপর আখশাবাইন* কে চাপিয়ে দিব। উত্তরে নবী (ﷺ) বললেন, বরং আশা করি মহান আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন সন্তান জন্ম দেবেন যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে আর তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৫৯; সৃষ্টির সূচনা, অধ্যায় ৭, হাঃ ৩২৩১; মুসলিম, পর্ব ৩২: জিহাদ, অধ্যায় ৩৯, হাঃ ১৭৯৫*আখশাবাইনঃ দুইটি কঠিন শিলার পাহাড়।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১১৭৩-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: দয়া। আয়িশা (রাঃ) জানতে চান, উহুদের চেয়েও কঠিন দিন কি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর এসেছে? তিনি আকাবার দিনের কষ্টের কথা বলেন, যখন ইবনু আবদে ইয়ালীল তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তিনি বিষণ্ণ মনে ফিরছিলেন। তারপর মেঘে জিবরীল (আঃ) আসেন এবং জানান, আল্লাহ তাঁর জাতির কথা শুনেছেন। পাহাড়ের ফেরেশতা এসে বলেন, চাইলে আখশাবাইন তাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) ধ্বংস চাননি। তিনি আশা করেন, আল্লাহ তাদের বংশ থেকে এমন মানুষ বের করবেন যারা এক আল্লাহর ইবাদাত করবে, শিরক করবে না। এই হাদিসে তায়িফ, দাওয়াত, কষ্ট, দয়া এবং তাওহীদের আশা একসঙ্গে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের কষ্টের পরও মানুষের হেদায়াতের আশা করেছেন।
  • প্রতিশোধের সুযোগ থাকলেও তিনি ধ্বংস চাননি।
  • তাওহীদ প্রতিষ্ঠাই তাঁর বড় আশা ছিল।
  • দাওয়াতের পথে প্রত্যাখ্যান এলেও ধৈর্য দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন