৩৪/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৫৬ - ধারালো আঘাত, বিসমিল্লাহ ও সন্দেহের বিধান
প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা শিকার করা।
হালাল শিকার বিধান: তীরের ধার, বিসমিল্লাহ ও সন্দেহ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৫৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৫৬
حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْمِعْرَاضِ، فَقَالَ: إِذَا أَصَابَ بِحَدِّهِ فَكُلْ، وَإِذَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّهُ وَقِيْذٌ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أُرْسِلُ كَلْبِي وَأُسَمِّي، فَأَجِدُ مَعَهُ عَلَى الصَّيْدِ كَلْبًا آخَرَ لَمْ أُسَمِّ عَلَيْهِ، وَلاَ أَدْرِي أَيُّهُمَا أَخَذَ قَالَ: لاَ تَأْكُلْ إِنَّمَا سَمَّيْتَ عَلَى كَلْبِكَ، وَلَمْ تُسَمِّ عَلَى الآخَرِ
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে পার্শ্বফলা বিহীন তীর (দ্বারা শিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, যদি তীরের ধারালো পার্শ্ব আঘাত করে, তবে সে (শিকারকৃত জানোয়ারের গোশত) খাবে, আর যদি এর ধারহীন পার্শ্বের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাবে না। কেননা তা প্রহারের মৃত, যবহকৃত নয়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি বিসমিল্লাহ পড়ে আমার (শিকারী) কুকুর ছেড়ে দিয়ে থাকি। পরে তার সাথে শিকারের কাছে (অনেক সময়) অন্য কুকুর দেখতে পাই যার উপর আমি বিসমিল্লাহ পড়িনি এবং আমি জানি না, উভয়ের মধ্যে কে শিকার ধরেছে। তিনি বললেন, তুমি তা খাবে না। তুমি তো তোমার কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ পড়েছ, অন্যটির উপর পড়নি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩৪ : ক্রয়-বিক্রয়, অধ্যায় ৩, হাঃ ২০৫৪; মুসলিম, পর্ব ৩৪ : শিকার, যবহ ও কোন্ প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم শিকারের ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝিয়েছেন। প্রথম বিষয় হলো পার্শ্বফলা বিহীন তীর বা অস্ত্র। যদি এর ধারালো অংশ আঘাত করে, তবে শিকার খাওয়া যায়। আর যদি ধারহীন পাশের আঘাতে মারা যায়, তবে তা খাওয়া যাবে না; কারণ সেটি আঘাতে মরা প্রাণীর মতো। দ্বিতীয় বিষয় হলো কুকুর দিয়ে শিকার। আদী রা. বলেন, তিনি বিসমিল্লাহ পড়ে নিজের কুকুর ছাড়েন, কিন্তু পরে শিকারের কাছে আরেকটি কুকুর দেখতে পান, যার উপর বিসমিল্লাহ বলা হয়নি। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তা খাবে না; তুমি তো নিজের কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলেছ, অন্যটির উপর বলনি। হাদিসটি সন্দেহের জায়গায় সতর্ক থাকার শিক্ষা দেয়। তাই হালাল খাবারের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আদব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধারালো অংশে আঘাত করলে শিকার খাওয়ার অনুমতি এসেছে।
- ধারহীন পাশের আঘাতে মারা গেলে খেতে নিষেধ করা হয়েছে।
- নিজের কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলা হলেও অন্য কুকুর মিশলে সন্দেহ তৈরি হয়।
- সন্দেহযুক্ত শিকারে সতর্ক থাকা উচিত।
