৩৪/১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৫৭ - কুকুরের ধরা শিকার ও তীরের আঘাত
প্রশিক্ষিত কুকুর দ্বারা শিকার করা।
শিকার বিধান: কুকুরের ধরা শিকার ও তীরের ফলক
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১২৫৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১২৫৭
حديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَيْدِ الْمِعْرَاضِ قَالَ: مَا أَصَابَ بِحَدِّهِ فَكُلْهُ، وَمَا أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَهُوَ وَقِيذٌ وَسَأَلْتُهُ عَنْ صَيْدِ الْكَلْبِ فَقَالَ: مَا أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ، فَإِنَّ أَخْذَ الْكَلْبِ ذَكَاةٌ، وَإِنْ وَجَدْتَ مَعَ كَلْبِكَ أَوْ كِلاَبِكَ كَلْبًا غَيْرَهُ فَخَشِيتَ أَنْ يَكُونَ أَخَذَهُ مَعَهُ، وَقَدْ قَتَلَهُ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا ذَكَرْتَ اسْمَ اللهِ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تَذْكُرْهُ عَلَى غَيْرِهِ
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে তীরের ফলকের আঘাত দ্বারা লব্ধ শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে নবী (ﷺ) বললেন, তীরের ধারালো অংশের দ্বারা যেটি নিহত হয়েছে সেটি খাও। আর ফলকের বাঁটের আঘাতে যেটি নিহত হয়েছে সেটি ‘অকীয’ (অর্থাৎ থেতলে যাওয়া মৃতের অন্তর্ভুক্ত)।আমি তাঁকে কুকুরের দ্বারা লব্ধ শিকার সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, যে শিকারকে কুকুর তোমার জন্য ধরে রাখে সেটি খাও। কেননা, কুকুরের ঘায়েল করা যবাহর হুকুম রাখে। তবে তুমি যদি তোমার কুকুর বা কুকুরগুলোর সঙ্গে অন্য কুকুর পাও এবং তুমি আশঙ্কা কর যে, অন্য কুকুরটিও তোমার কুকুরের শিকার পাকড়াও করেছে এবং হত্যা করেছে, তা হলে তা খেও না। কেননা, তুমি তো কেবল নিজের কুকুরের উপর বিসমিল্লাহ বলেছ। অন্যের কুকুরের ক্ষেত্রে তা বলনি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭২: যব্হ ও শিকার, অধ্যায় ১, হাঃ ৫৪৭৫; মুসলিম, পর্ব ৩৪: শিকার, যব্হ ও কোন প্রকার জন্তু খাওয়া যায়, অধ্যায় ১, হাঃ ১৯২৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১২৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আদী ইবনু হাতিম রা. নবী صلى الله عليه وسلم-কে তীরের ফলক এবং কুকুরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তীরের ধারালো অংশে যে শিকার নিহত হয়েছে তা খাও; আর ফলকের বাঁটের আঘাতে নিহত প্রাণী অকীয, অর্থাৎ থেতলে যাওয়া মৃতের মতো। এরপর কুকুরের শিকার সম্পর্কে বলেন, যে শিকার কুকুর তোমার জন্য ধরে রাখে তা খাও, কারণ কুকুরের ঘায়েল করা যবাহর হুকুম রাখে। তবে যদি তোমার কুকুরের সঙ্গে অন্য কুকুর থাকে এবং আশঙ্কা হয় অন্য কুকুরও শিকার ধরেছে বা হত্যা করেছে, তবে খেও না। কারণ তুমি নিজের কুকুরের উপর আল্লাহর নাম নিয়েছ, অন্যটির উপর নয়। এই হাদিস হালাল-হারামের বিষয়ে সন্দেহ এড়াতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তীরের ধারালো অংশে নিহত শিকার খাওয়ার অনুমতি আছে।
- বাঁটের আঘাতে মারা প্রাণী খেতে নিষেধ করা হয়েছে।
- প্রশিক্ষিত কুকুরের ধরা শিকার যবাহর হুকুম পেতে পারে।
- অন্য কুকুর মিশে গেলে সন্দেহের কারণে শিকার খাওয়া যাবে না।
