৩৭/২. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৩৯ - সোনা-রূপার পাত্র ও রেশম নিষেধ
পুরুষ ও মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার হারাম এবং স্বর্ণের আংটি ও রেশমী বস্ত্র পুরুষের জন্য হারাম ও তা মহিলাদের জন্য বৈধ এবং রেশমী দ্বারা নকশা করা যার পরিমাণ চার আঙ্গুলের বেশি নয় তা পুরুষের জন্য বৈধ।
সোনা-রূপার পাত্র ও রেশম: মুসলিম জীবনে সংযমের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৩৩৯
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৩৩৯
حديث حُذَيْفَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، أَنَّهُمْ كَانُوا عِنْدَ حُذَيْفَةَ، فَاسْتَسْقَى، فَسَقَاهُ مَجُوسِيٌّ فَلَمَّا وَضَعَ الْقَدَحَ فِي يَدِهِ رَمَاهُ بِهِ، وَقَالَ: لَوْلاَ أَنِّي نَهَيْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ كَأَنَّهُ يَقُولُ لَمْ أَفْعَلْ هذَا وَلكِنِّي سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لاَ تَلْبَسُوا الْحَرِيرَ وَلاَ الدِّيبَاجَ وَلاَ تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَلاَ تَأْكُلُوا فِي صِحَافِهَا، فَإِنَّهَا لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَنَا فِي الآخِرَةِ
‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার তাঁরা হুযাইফাহ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলে এক অগ্নি উপাসক তাঁকে পানি এনে দিল। সে যখনই পাত্রটি তাঁর হাতে রাখল, তিনি সেটা ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন, আমি যদি একবার বা দুইবারের অধিক তাকে নিষেধ না করতাম, তাহলেও হতো। অর্থাৎ তিনি যেন বলতে চান, তা হলেও আমি এরূপ করতাম না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা রেশম বা রেশম জাত কাপড় পরিধান করো না এবং সোনা ও রূপার পাত্রে পান করো না এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কেননা পৃথিবীতে এগুলো কাফিরদের জন্য আর পরকালে তোমাদের জন্য।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৭০: খাওয়া-খাদ্য, অধ্যায় ২৯, হাঃ ৫৪২৬; মুসলিম, পর্ব ৩৭ : পোষাক ও অলঙ্কার, অধ্যায় ১, হাঃ ২০৬৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৩৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুযাইফাহ (রাঃ)-এর ঘটনার মাধ্যমে সোনা-রূপার পাত্র এবং রেশমী পোশাকের বিষয়ে সতর্কতা এসেছে। তিনি পানি চাইলে একজন অগ্নি উপাসক পাত্রে পানি দিল। পাত্র হাতে পেয়ে তিনি তা ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, তিনি তাকে আগেই নিষেধ করেছিলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী উল্লেখ করলেন—রেশম ও দীবাজ পরিধান করো না, সোনা-রূপার পাত্রে পান করো না, এবং এগুলোর বাসনে আহার করো না। কারণ এগুলো দুনিয়ায় তাদের জন্য, আর আখিরাতে তোমাদের জন্য। এই হাদিস মুসলিমকে দুনিয়ার চাকচিক্য থেকে সংযম, আলাদা পরিচয় এবং নিষিদ্ধ পাত্র থেকে বাঁচার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রেশম ও দীবাজ পরিধান থেকে নিষেধ এসেছে।
- সোনা-রূপার পাত্রে খাওয়া-পান করা নিষেধ বলা হয়েছে।
- দুনিয়ার বিলাসিতা থেকে সংযমী থাকা মুসলিম চরিত্রের অংশ।
