৩/৩. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৩ - হায়য অবস্থায় চুল ধোয়ার শিক্ষা
হায়িযওয়ালী নারী তার স্বামীর মাথা ধুয়ে দিতে এবং মাথার চুল আঁচড়ে দিতে পারবে।
হায়য অবস্থায় ইতিকাফকারীর চুল ধোয়ার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ১৭৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৭৩
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ، وَكَانَ يُخْرِجُ رَأْسَهُ مِنَ الْمَسْجِدِ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فَأَغْسِلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর নবী (ﷺ) আমার হায়য অবস্থায় আমার সাথে মিশামিশি করতেন। আর তিনি ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ হতে তাঁর মাথা বের করে দিতেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতাম।
সহীহুল বুখারী পর্ব ৩৩, অধ্যায় ৪, হাঃ ৩০১; মুসলিম, পর্ব ৩: হায়য, অধ্যায়, হাঃ ৩১৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর হায়য অবস্থায় তাঁর সাথে মিশামিশি করতেন। আর তিনি ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ থেকে মাথা বের করে দিতেন, আয়িশা (রাঃ) ঋতুবতী অবস্থায় তা ধুয়ে দিতেন। এখানে দুটি বিষয় এসেছে: হায়য অবস্থায় স্বাভাবিক ঘরোয়া মিশামিশি এবং ইতিকাফের সময়ে মসজিদ থেকে মাথা বের করে চুল ধোয়া। হাদিসটি শেখায়, হায়য অবস্থাকে অশ্রদ্ধার চোখে দেখা নয়; বরং পবিত্রতার সীমা মেনে স্বাভাবিক আচরণ করা। একই সঙ্গে ইতিকাফের মূল অবস্থান নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পথও দেখা যায়। ব্যাখ্যায় হাদিসের বাইরে কোনো অতিরিক্ত বিধান যোগ করা হয়নি, শুধু বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুবতী অবস্থায় আয়িশা (রাঃ) রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর মাথা ধুয়ে দিতেন।
- ইতিকাফে থেকেও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার সহজ পথ দেখা যায়।
- হায়য অবস্থায় স্বাভাবিক সম্মানজনক আচরণ বজায় ছিল।
- মসজিদের সীমা ও পবিত্রতার বিষয় খেয়াল রাখা হয়েছে।
