৪/২১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৩৮ - আবূ বকর (রা.)-কে সালাত পড়ানোর নির্দেশ
অসুখের কারণে ও সফরে যাওয়ার কারণে বা অন্য যে কোন কারণে সঙ্গত ওজর উপস্থিত হলে সালাতে অন্যকে ইমামের স্থলাভিষিক্ত করা।
আবূ বকর (রা.)-কে ইমাম বানানোর হাদিস: নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ২৩৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ২৩৮
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: لَمَّا مَرِضَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَضَهُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَأُذِّنَ، فَقَالَ: مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رجلٌ أَسِيفٌ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُصَلِّي بِالنَّاسِ وَأَعَادَ فَأَعَادُوا لَهُ، فَأَعَادَ الثَّالِثَةَ، فَقَالَ: إِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ، مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ؛فَخَرَجَ أَبُو بَكْرٍ فَصَلَّى، فَوَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً، فَخَرَجَ يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ، كَأَنِّي أَنْظُرُ رِجْلَيْهِ تَخُطَّانِ الأَرْضَ مِنَ الْوَجَعِ، فَأَرَادَ أَبُو بَكْرٍ أَنْ يَتَأَخَّرَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ مَكَانَكَ، ثُمَّ أُتِيَ بِهِ حَتَّى جَلَسَ إِلَى جَنْبِهِ فَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي، [ص: 87] وأَبُو بَكْرٍ يُصَلِّي بِصَلاَتِهِ، وَالنَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন অন্তিম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন, তখন সালাতের সময় হলে আযান দেয়া হলো। তখন তিনি বললেন, আবূ বক্রকে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করতে বল। তাঁকে বলা হলো যে, আবূ বকর (রাঃ) অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের লোক, তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন তখন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবার সে কথা বললেন এবং তারাও আবার তা-ই বললেন। তৃতীয়বারও তিনি সে কথা বললেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের ন্যায়। আবূ বক্রকে নির্দেশ দাও যেন লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আবূ বকর (রাঃ) এগিয়ে গিয়ে সালাত শুরু করলেন।এদিকে নবী (ﷺ) নিজেকে একটু হালকাবোধ করলেন। দুইজন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে এলেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আমার চোখে এখনও স্পষ্ট ভাসছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর দুই পা মাটির উপর দিয়ে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। তখন আবূ বকর (রাঃ) পিছনে সরে আসতে চাইলেন। নবী (ﷺ) তাঁকে স্বস্থানে থাকার জন্য ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে আনা হলো, তিনি আবূ বকর (রাঃ)-এর পাশে বসলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) সালাত আদায় করছিলেন, আবূ বকর (রাঃ) তাঁর সালাতের অনুসরণ করছিলেন, আর লোকেরা আবূ বকর (রাঃ)-এর সালাতের অনুসরণ করছিল।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ১০ আযান, অধ্যায় ৩৯, হাঃ ৬৬৪;মুসলিম, পর্ব ৪ : সালাত, অধ্যায় ২১, হাঃ ৪১৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ২৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর অন্তিম রোগের সময় আবূ বকর (রা.)-এর ইমামতির কথা এসেছে। সালাতের সময় হলে আযান দেওয়া হয়। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, আবূ বকরকে লোকদের নিয়ে সালাত পড়াতে বল। তাঁকে বলা হয়, আবূ বকর (রা.) কোমল হৃদয়ের মানুষ; আপনার স্থানে দাঁড়ালে তাঁর পক্ষে লোকদের নিয়ে সালাত পড়ানো কঠিন হবে। নবী صلى الله عليه وسلم একই নির্দেশ বারবার দেন এবং শেষে বলেন, তোমরা ইউসুফের সাথীদের মতো। এরপর আবূ বকর (রা.) সালাত শুরু করেন। নবী صلى الله عليه وسلم কিছুটা সুস্থ বোধ করলে দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে বের হন। তাঁর পা অসুস্থতার কারণে মাটিতে হেঁচড়ে যাচ্ছিল। আবূ বকর (রা.) পিছিয়ে যেতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে জায়গায় থাকতে ইঙ্গিত করেন, তারপর তিনি তাঁর পাশে বসেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم আবূ বকর (রা.)-কে লোকদের নিয়ে সালাত পড়াতে বলেন।
- আপত্তি সত্ত্বেও নবী صلى الله عليه وسلم একই নির্দেশ আবার দেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم মসজিদে এসে আবূ বকর (রা.)-কে স্থানে থাকতে ইঙ্গিত করেন।
