৯/২. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫১৭ - বৃষ্টি চাওয়া ও অতিবৃষ্টি সরানোর দোয়া

ইসতিস্কার সালাতে দোয়া।

বৃষ্টি চাওয়া ও অতিবৃষ্টি সরানোর দোয়া: জুমার খুতবার ঘটনা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫১৭

حديث أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: أَصَابَتِ النَّاسَ سَنَةٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ، قَامَ أَعْرَابِيٌّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ هَلَكَ الْمَالُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ، فَادْعُ اللهَ لَنَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ، وَمَا نَرَى فِي السَّماءِ قَزَعَةً، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا وَضَعَهَا حَتَّى ثَارَ السَّحَابُ أَمْثَالَ الْجِبَالِ ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْمَطَرَ يَتَحَادَرُ عَلَى لِحْيَتِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمُطِرْنَا يَوْمَنَا ذلِكَ، وَمِنَ الْغَدِ، وَبَعْدَ الْغَدِ، وَالَّذِي يَلِيهِ، حَتَّى الْجُمُعَةِ الأُخْرَى فَقَامَ ذلِكَ الأَعْرَابِيُّ، أَوْ قَالَ غَيْرُهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ [ص: 174] تَهَدَّمَ الْبِنَاءُ، وَغَرِقَ الْمَالُ، فَادْعُ اللهَ لَنَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: اللهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا فَمَا يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّحَابِ إِلاَّ انْفَرَجَتْ وَصَارَتِ الْمَدينَةُ مِثْلَ الْجَوْبَةِ، وَسَالَ الْوَادِي قَنَاةُ شَهْرًا، وَلَمْ يَجِىءْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلاَّ حَدَّثَ بِالْجَوْدِ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ)-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সে সময় কোন এক জুমু‘আহ’র দিন নবী (ﷺ) খুত্‌বা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুইন উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! (বৃষ্টির অভাবে) সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজনও অনাহারে রয়েছে। তাই আপনি আল্লাহ্‌র নিকট আমাদের জন্য দু‘আ করুন। তিনি দুই হাত তুললেন। সে সময় আমরা আকাশে এক খণ্ড মেঘও দেখিনি। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ (করে বলছি)! (দু‘আ শেষে) তিনি দুই হাত (এখনও) নামান নি, এমন সময় পাহাড়ের ন্যায় মেঘের বিরাট বিরাট খণ্ড উঠে আসল।অতঃপর তিনি মিম্বর হতে অবতরণ করেন নাই, এমন সময় দেখতে পেলাম তাঁর (পবিত্র) দাড়ির উপর ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে। সে দিন আমাদের এখানে বৃষ্টি হল। এর পরে ক্রমাগত দুইদিন এবং পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত প্রত্যেক দিন। (পরবর্তী জুমু‘আহ’র দিন) সে বেদুইন অথবা অন্য কেউ উঠে দাঁড়াল এবং আরয করল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! (বৃষ্টির কারণে) এখন আমাদের বাড়ি ঘর ধ্বসে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। তাই আপনি আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র নিকট দু‘আ করুন।তখন তিনি দুই হাত তুললেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ্ আমাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় (বৃষ্টি দাও), আমাদের উপর নয়। (দু‘আর সময়) তিনি মেঘের এক একটি খণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন, আর সেখানকার মেঘ কেটে যাচ্ছিল। এর ফলে চতুর্দিকে মেঘ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ঢালের ন্যায় মাদীনার আকাশ মেঘমুক্ত হয়ে গেল এবং কানাত উপত্যকায় পানি একমাস ধরে প্রবাহিত হতে লাগল, তখন (মদীনার) চতুষ্পার্শ্বের যে কোন অঞ্চল হতে যে কেউ এসেছে, সে এ প্রবলভাবে বৃষ্টির কথা আলোচনা করেছে।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ১১ জুমুআহ, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ৯৩৩; মুসলিম, পর্ব ৯ : পানি প্রার্থনার সালাত, অধ্যায় ২, হাঃ ৮৯৭

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫১৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বৃষ্টি চাওয়ার দোয়া এবং অতিবৃষ্টি থেকে রক্ষার দোয়া। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুগে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এক জুমার দিন খুতবার সময় এক বেদুইন এসে অনুরোধ করে, সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবার অনাহারে আছে—আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। নবী صلى الله عليه وسلم দুই হাত তুললেন, আর আকাশে মেঘ দেখা না গেলেও দ্রুত মেঘ উঠল এবং বৃষ্টি শুরু হলো। পরের জুমা পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে থাকে। তখন আবার বলা হলো, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে, সম্পদ ডুবে যাচ্ছে। নবী صلى الله عليه وسلم দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ, আমাদের চারপাশে, আমাদের উপর নয়।” এরপর মেঘ সরে যায়। এই হাদিস দোয়া, আল্লাহর সাহায্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভারসাম্যপূর্ণ চাওয়ার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দুর্ভিক্ষে নবী صلى الله عليه وسلم আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছেন।
  • অতিবৃষ্টিতে ক্ষতি হলে বৃষ্টি সরানোর দোয়াও করেছেন।
  • প্রয়োজনের সময় দোয়া এবং ক্ষতির সময় সুরক্ষা—দুটিই চাওয়া যায়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন