১২/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৭৩ - নবী যুগে ফিতরা আদায়ের পদ্ধতি
মুসলিমদের উপর যাকাতুল ফিতর হিসাবে খেজুর ও যব প্রদান।
নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুগে ফিতরা: খাদ্যদ্রব্য ও পরিমাণের বর্ণনা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৫৭৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৫৭৩
حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: كُنَّا نُعْطِيَهَا، فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، صَاعًا مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ، أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمَّا جَاءَ مُعَاوِيَةُ وَجَاءَتِ السَّمْرَاءُ، قَالَ: أَرَى مُدًّا مِنْ هذَا يَعْدِلُ مُدَّيْنِ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর যুগে এক সা‘আ খাদ্যদ্রব্য বা এক সা‘আ খেজুর বা এক সা‘আ যব বা এক সা‘আ কিসমিস দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম। মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর যুগে যখন গম আমদানি হল তখন তিনি বললেন, এক মুদ গম (পূর্বোক্তগুলোর) দুই মুদ-এর সমপরিমাণ বলে আমার মনে হয়।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৭৫, হাঃ ১৫০৮; মুসলিম, পর্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৪, হাঃ ৯৮৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৫৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুগের ফিতরা আদায়ের পদ্ধতি বলেছেন। তাঁরা এক সা‘ খাদ্যদ্রব্য, এক সা‘ খেজুর, এক সা‘ যব বা এক সা‘ কিসমিস দিয়ে সদাকাতুল ফিতর দিতেন। পরে মু‘আবিয়াহ (রাঃ)-এর যুগে গম আসলে তিনি বলেন, এক মুদ গম তাঁর মতে পূর্বোক্তগুলোর দুই মুদের সমপরিমাণ। এখানে মূল বিষয় হলো সদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ ও খাদ্যদ্রব্য। হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুগের আমল এবং পরে গম নিয়ে একটি মত—দুটিই আলাদা করে এসেছে। তাই ফিতরা নিয়ে আলোচনা করলে এই পার্থক্য ঠিকভাবে বোঝা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুগে এক সা‘ খাদ্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া হতো।
- খেজুর, যব ও কিসমিসের কথা হাদিসে এসেছে।
- গম আসার পর সমপরিমাণ নিয়ে আলাদা মত উল্লেখ হয়েছে।
- ফিতরার আলোচনা করতে হলে মূল আমল ও পরবর্তী মত আলাদা রাখতে হয়।
