১২/৪৬. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৩১ - ঈমান, ইসলাম ও প্রজ্ঞাময় দান
ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য প্রদান এবং যাদের ঈমান শক্ত তাদের ধৈর্য ধারণ করা।
ঈমান না মুসলিম: প্রজ্ঞাময় দান ও অন্তরের সতর্কতা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬৩১
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬৩১
حديث سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: أَعْطَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَهْطًا وَأَنَا جَالِسٌ فِيهِمْ، قَالَ: فَتَرَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهُمْ رَجُلاً لَمْ يُعْطِهِ، وَهُوَ أَعْجَبُهُمْ إِلَيَّ، فَقُمْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَارَرْتُهُ، فَقُلْتُ: مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللهِ إِنِّي لأُرَاهُ مُؤْمِنًا قَالَ: أَوْ مُسْلِمًا قَالَ: فَسَكَتُّ قَلِيلاً؛ ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ فِيهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللهِ إِنِّي لأُرَاهُ مُؤْمِنًا قَالَ: أَوْ مُسْلِمًا قَالَ: فَسَكَتُّ قَلِيلاً، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ فِيهِ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللهِ إِنِّي لأُرَاهُ مُؤْمِنًا قَالَ: أَوْ مُسْلِمًا فَقَالَ: إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ، وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْهُ، خَشْيَةَ أَنْ يُكَبَّ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِهِ
সা‘দ ইব্নু আবূ ওক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একদল লোককে কিছু দান করলেন। আমি তাদের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম। নবী (ﷺ) তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তিকে কিছুই দিলেন না। অথচ সে ছিল আমার বিবেচনায় তাদের মধ্যে সবচাইতে উত্তম। আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে চুপে চুপে বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আমি তো তাকে অবশ্য মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম (বল)।সা’দ (রাঃ) বলেন, এরপর আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনে করি। তিনি বললেনঃ বরং মুসলিম। এবারও কিছুক্ষণ নীরব রইলাম। আবার তার সম্পর্কে আমার ধারণা প্রবল হয়ে উঠলে আমি বললাম, অমুক সম্পর্কে আপনার কী হলো? আল্লাহর কসম! আমি তো তাকে মু’মিন বলে মনে করি। নবী (ﷺ) বললেনঃ অথবা মুসলিম! এভাবে তিনবার বললেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ অন্য ব্যক্তি আমার নিকট অধিক প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি আরেকজনকে দিয়ে থাকি এই আশঙ্কায় যে, তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৪: যাকাত, অধ্যায় ৫৩, হাঃ ১৪৭৮; মুসলিম, পর্ব ১২: যাকাত, অধ্যায় ৫৪, হাঃ ১৫০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দান বণ্টনের সঙ্গে ঈমান ও ইসলাম বলার আদব শেখানো হয়েছে। সা‘দ (রাঃ) দেখলেন, রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) একদল লোককে দান করলেন, কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে একজন ভালো মানুষকে দিলেন না। তিনি বললেন, আমি তো তাকে মুমিন মনে করি। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, বরং মুসলিম বল। এতে বোঝা যায়, মানুষের প্রকাশ্য অবস্থা দেখে মুসলিম বলা যায়, কিন্তু অন্তরের ঈমানের চূড়ান্ত বিচার আল্লাহর বিষয়। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, কখনও তিনি এমন ব্যক্তিকে দেন, অথচ অন্যজন তাঁর কাছে বেশি প্রিয়; কারণ আশঙ্কা থাকে, না দিলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বণ্টন সব সময় শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে নয়, মানুষের অবস্থা বুঝেও হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও অন্তরের ঈমান নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- প্রকাশ্য অবস্থার ভিত্তিতে কাউকে মুসলিম বলা নিরাপদ ভাষা হতে পারে।
- দান বণ্টনে মানুষের দুর্বলতা ও প্রয়োজন বিবেচনা করা যায়।
- যাকে দেওয়া হয়নি, সে অবহেলিত—এমন ভাবা সব সময় ঠিক নয়।
