১৩/৩৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭১৫ - শরীর, চোখ, স্ত্রী ও মেহমানের হক
সাওম দাহর (একাধারে এক যুগ) সাওম করা ঐ ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ, যার এর মাধ্যমে ক্ষতি হবে অথবা এর মাধ্যমে অন্যের হক নষ্ট হবে অথবা দুই ঈদে সাওম ভঙ্গ না করা এবং তাশরীকের দিনগুলোতে সাওম ভঙ্গ না করা এবং একদিন বিরতি দিয়ে সাওম করার ফাযায়েল।
ইবাদতে ভারসাম্য: শরীর, পরিবার ও মেহমানের হক
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৭১৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৭১৫
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: [ص: 22] يَا عَبْدَ اللهِ أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ وَتَقُومُ اللَّيْلَ فَقُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: فَلاَ تَفْعَلْ، صُمْ وَأَفْطِرْ، وَقُمْ وَنَمْ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ بِحَسْبِكَ أَنْ تَصُومَ كُلَّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ، فَإِنَّ لَكَ بِكُلِّ حَسَنَةٍ عَشْرَ أَمْثَالِهَا، فَإِنَّ ذلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ فَشَدَّدْتُ فَشُدِّدَ عَلَيَّ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً قَالَ: فَصُمْ صِيَامَ نَبِيِّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، وَلاَ تَزِدْ عَلَيْهِ قُلْتُ: وَمَا كَانَ صِيَامُ نَبِيِّ اللهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ: نِصْفُ الدَّهْرِفَكَانَ عَبْدُ اللهِ يَقُولُ بَعْدَمَا كَبِرَ: يَا لَيْتَنِي قَبِلْتُ رُخْصَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, তুমি প্রতিদিন সাওম পালন কর এবং সারা রাত সালাত আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) সাওম পালন কর আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) সালাত আদায় কর আবার ঘুমাও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক রয়েছে, তোমার চোখের হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে। তোমার জন্য যথেষ্ট যে, তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সাওম পালন কর। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকী। এভাবে সারা বছরের সাওম হয়ে যায়।আমি (বললাম) আমি এর চেয়েও কঠোর আমল করতে সক্ষম। তখন আমাকে আরও কঠিন আমলের অনুমতি দেয়া হল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আরো বেশি শক্তি রাখি। তিনি বললেনঃ তবে আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ)-এর সাওম পালন কর, এর চেয়ে বেশি করতে যেয়ো না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নবী দাঊদ (আঃ)-এর সাওম কেমন? তিনি বললেনঃ অর্ধেক বছর। রাবী বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বৃদ্ধ বয়সে বলতেন, আহা! আমি যদি নবী (ﷺ) প্রদত্ত রুখসত (সহজতর বিধান) কবুল করে নিতাম!
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩০: সওম, অধ্যায় ৫৫, হাঃ ১৯৭৫; মুসলিম, পর্ব ১৩ : সওম, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ১১৫৯
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৭১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-কে দরদি ভাষায় শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন সাওম রাখতেন এবং সারা রাত সালাত আদায় করতেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, এমন করবে না; সাওম রাখো, আবার ছাড়ো; সালাত আদায় করো, আবার ঘুমাও। কারণ তোমার শরীরের হক আছে, চোখের হক আছে, স্ত্রীর হক আছে, মেহমানের হক আছে। এই হাদিস ইবাদতের সঙ্গে জীবনের দায়িত্বকে একসঙ্গে দেখায়। মাসে তিন দিন সাওম রাখার কথাও এসেছে, কারণ প্রতিটি নেক কাজের দশগুণ সাওয়াব। পরে তিনি দাউদ (আঃ)-এর সাওমের কথা বলেন, কিন্তু এর বেশি করতে নিষেধ করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদতের পাশাপাশি শরীর, চোখ, পরিবার ও মেহমানের হক আছে।
- মাসে তিন দিন সাওম রাখা একটি সহজ ও মূল্যবান আমল।
- সহজতর বিধান গ্রহণ করা দুর্বলতা নয়; তা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর শিক্ষা।
