১৫/৫০. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮১৭ - জামরাতুল আকাবায় সাত কঙ্কর
বাতনে ওয়াদী থেকে জামরাতুল আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপকালে মক্কাকে বাম দিকে রাখা এবং প্রত্যেকবার কঙ্কর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলা।
জামরাতুল আকাবায় সাত কঙ্কর ও তাকবীরের হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৮১৭
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮১৭
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ: السُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا الْبَقَرَةُ، وَالسُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا آلُ عِمْرَانَ، وَالسُّورَةُ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا النِّسَاءُ،قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لإِبْرَاهِيمَ، فَقَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمنِ ابْنُ يَزِيدَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه، حِينَ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ، فَاسْتَبْطَنَ الْوَادِيَ، حَتَّى حَاذَى بِالشَّجَرَةِ اعْتَرَضَهَا، فَرَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ، يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ قَالَ: مِنْ ههُنَا، وَالَّذِي لاَ إِلهَ غَيْرُهُ، قَامَ الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আ’মাশ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হাজ্জাজকে মিম্বরের উপর এরূপ বলতে শুনেছি, যে সূরার মধ্যে বাকারাহ’র উল্লেখ রয়েছে, সে সূরার মধ্যে আলু ‘ইমরানের উল্লেখ রয়েছে এবং যে সূরার মধ্যে নিসা-এর উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সে সূরা আল-বাকারাহ, সূরা আলু ‘ইমরান ও সূরা আন-নিসা বলা পছন্দ করতো না।বর্ণনাকারী আ‘মাশ (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারটি আমি ইবরাহীম (রহঃ)-কে বললাম। তিনি বললেন, আমার কাছে ‘আবদুর রহমান ইব্নু ইয়াযীদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, জামরায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর মারার সময় তিনি ইব্নু মাস্‘ঊদ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন। ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ) বাতনে ওয়াদীতে গাছটির বরাবর এসে জামরাকে সামনে রেখে দাঁড়ালেন এবং তাকবীর সহকারে কঙ্কর মারলেন। এরপর বললেন, সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, এ স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, যাঁর উপর নাযিল হয়েছে সূরা বাকারাহ (অর্থাৎ সূরা বাকারাহ বলা বৈধ)।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ২৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ১৩৮, হাঃ ১৭৫০; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৫০, হাঃ ১২৯৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি বিষয় এসেছে। প্রথমে হাজ্জাজ সূরাগুলোর নাম বলার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলত, যা বর্ণনাকারী ইবরাহীম (রহ.)-কে জানান। এরপর ইবরাহীম (রহ.) আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ)-এর বর্ণনা বলেন। তিনি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলেন, যখন তিনি জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর মারেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বাতন ওয়াদীতে এসে গাছটির বরাবর দাঁড়ান, জামরাকে সামনে রাখেন এবং সাতটি কঙ্কর মারেন। প্রতিটি কঙ্করের সঙ্গে তিনি তাকবীর বলেন। তারপর তিনি বলেন, এখানেই দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, যার ওপর সূরা বাকারাহ নাযিল হয়েছে। এই হাদিসে জামরায় কঙ্কর মারা, সাত কঙ্কর, প্রতিটির সঙ্গে তাকবীর এবং রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর স্থান অনুসরণের বিষয় স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামরাতুল আকাবায় সাতটি কঙ্কর মারার বর্ণনা এসেছে।
- ইবনু মাসউদ (রাঃ) প্রতিটি কঙ্করের সঙ্গে তাকবীর বলেছেন।
- তিনি রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর দাঁড়ানোর স্থান অনুসরণ করেছেন।
- সূরা বাকারাহ নামটি ব্যবহারের কথাও এই বর্ণনায় বোঝা যায়।
