১৬/২১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯১৩ - আযল ও তাকদীরের শিক্ষা
আযল এর বিধান।
আযল সম্পর্কে হাদিস: প্রশ্ন, অনুমতি ও তাকদীরের শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯১৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯১৩
حديث أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ، فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْىِ الْعَرَبِ، فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ، وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ، وَأَحْبَبْنَا الْعَزْلَ، فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ؛ وَقُلْنَا: نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ؛ فَقَالَ: مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لاَ تَفْعَلُوا، مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ وَهِيَ كَائِنَةٌ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে যোগদান করেছিলাম। এ যুদ্ধে আরবের বহু বন্দী আমাদের হস্তগত হয়। মহিলাদের প্রতি আমাদের মনে আসক্তি জাগে এবং বিবাহ-শাদী ব্যতীত এবং স্ত্রী-হীন অবস্থা আমাদের জন্য কষ্টকর অনুভূত হয়। তাই আমরা আযল করা পছন্দ করলাম এবং তা করতে মনস্থ করলাম। তখন আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আমাদের মাঝে আছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস না করেই আমরা আযল করতে যাচ্ছি। আমরা তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, ওটা না করলে তোমাদের কী ক্ষতি? কিয়ামত পর্যন্ত যতগুলো প্রাণের আগমন ঘটবার আছে, ততগুলোর আগমন ঘটবেই।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৩২, হাঃ ৪১৩৮; মুসলিম, পর্ব ১৬ : নিকাহ বা বিবাহ, অধ্যায় ২১, হাঃ ১৪৩৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আযল ও তাকদীর। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) জানান, তাঁরা বানূ মুসতালিকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে ছিলেন। যুদ্ধের পর কিছু বন্দী নারী তাঁদের হাতে আসে। স্ত্রীহীন অবস্থার কষ্টের কারণে তাঁরা আযল করতে চাইলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদের মাঝে থাকায় তাঁকে না জিজ্ঞেস করে কাজটি করা ঠিক মনে করলেন না। তাঁরা জিজ্ঞেস করলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, না করলে তোমাদের কী ক্ষতি? কিয়ামত পর্যন্ত যত প্রাণ আসার আছে, তা আসবেই। এই হাদিসে সাহাবীদের প্রশ্ন করার মনোভাব এবং আল্লাহর নির্ধারণের ওপর বিশ্বাস—দুটি বিষয় পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নতুন বা সংবেদনশীল বিষয়ে আলেম বা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করার শিক্ষা আছে।
- আযল প্রসঙ্গে সাহাবীরা নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রশ্ন করেছেন।
- প্রাণের আগমন আল্লাহর নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত।
- হাদিসটি তাকদীরের ওপর বিশ্বাসকে স্মরণ করায়।
