১৮/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪৩ - ইখতিয়ার তালাক নয়
যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাকের ইখতিয়ার দেয় তাহলে সেটা তালাক হবে না নিয়ত করা ব্যতীত।
ইখতিয়ার তালাক নয়: আল্লাহ ও রাসূলকে বেছে নেওয়ার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৪৩
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৪৩
حديث عَائِشَةَ، قَالَتْ: خَيَّرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاخْتَرْنَا الله وَرَسُولَهُ، فَلَمْ يَعُدَّ ذَلِكَ عَلَيْنَا شَيْئًا
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আমাদের ইখতিয়ার দিলে আমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকেই গ্রহণ করলাম। আর এতে আমাদের তালাক সাব্যস্ত হয়নি।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৮ : ত্বালাক (বিবাহ বিচ্ছেদ), অধ্যায় ৫, হাঃ ৫২৬২; মুসলিম, পর্ব ১৮: তালাক, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৪৭৫
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইখতিয়ার ও তালাকের পার্থক্য। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। অর্থাৎ তাঁদের সামনে বেছে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেই বেছে নিলেন। এরপর তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এতে তাঁদের ওপর তালাক সাব্যস্ত হয়নি। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা পরিষ্কার। শুধু বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া আর বাস্তবে বিচ্ছেদ হওয়া এক কথা নয়। এখানে নবীজির স্ত্রীগণের ঈমানি সিদ্ধান্তও দেখা যায়। তাঁরা দুনিয়ার পথ না নিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে থাকার পথ বেছে নিলেন। এই হাদিস পড়লে বোঝা যায়, ইসলামে কথার অর্থ ও ফলাফল বুঝে বিচার করা হয়। আবেগ দিয়ে নয়, স্পষ্ট বক্তব্য ও বাস্তব অবস্থার দিকে তাকানো জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইখতিয়ার দেওয়া মানেই তালাক হয়ে যাওয়া নয়।
- আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নেওয়া ঈমানি দৃঢ়তার পরিচয়।
- বড় বিষয়ে কথার অর্থ পরিষ্কারভাবে বুঝতে হয়।
- দাম্পত্য বিষয়ে আবেগ নয়, সঠিক বুঝ জরুরি।
