১৮/৪. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪২ - নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও অগ্রাধিকার
যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাকের ইখতিয়ার দেয় তাহলে সেটা তালাক হবে না নিয়ত করা ব্যতীত।
নবীজির প্রতি ভালোবাসা: কাউকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার শিক্ষা
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৯৪২
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৪২
حديث عَائِشَةَ عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْتَأْذِنُ فِي يَوْمِ الْمَرْأَةِ مِنَّا بَعْدَ أَنْ أُنْزِلَتْ هذِهِ الآيَةُ ﴾تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ وَمَنِ ابْتَغَيْتَ مِمَّنْ عَزَلْتَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكَ﴿ فَقُلْتُ لَهَا مَا كُنْتِ تَقُولِينَ قَالَتْ: كُنْتُ أَقُولُ لَهُ: إِنْ كَانَ ذَاكَ إِلَيَّ فَإِنِّي لاَ أُرِيدُ، يَا رَسُولَ اللهِ أَنْ أُوثِرَ عَلَيْكَ أَحَدًا
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্ত্রীদের সঙ্গে অবস্থানের পালার ব্যাপারে আমাদের থেকে অনুমতি চাইতেন এ আয়াত নাযিল হওয়ার পরও, আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে আপনার নিকট হতে দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছে আপনার নিকট স্থান দিতে পারেন এবং আপনি যাকে দূরে রেখেছেন তাকে কামনা করলে আপনার কোন অপরাধ নেই। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পর মু‘আযাহ বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এর উত্তরে কি বলতেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতাম, এ বিষয়ের অধিকার যদি আমার থেকে থাকে তাহলে আমি হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার ব্যাপারে কাউকে অগ্রাধিকার দিতে চাইনে।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৩৩, হাঃ ৪৭৮৯; মুসলিম, পর্ব ১৮: তালাক, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৪৭৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান। আয়াত নাযিল হওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) স্ত্রীদের পালার ব্যাপারে তাঁদের অনুমতি চাইতেন। এতে তাঁর কোমল আচরণ ও সম্মানবোধ ফুটে ওঠে। আল্লাহ তাঁকে কিছু বিষয়ে বিশেষ অধিকার দিয়েছিলেন, তবুও তিনি তাঁদের মনকে গুরুত্ব দিতেন। যখন ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি কী উত্তর দিতেন, তিনি বলেন, যদি বিষয়টি তাঁর হাতে থাকে, তবে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم)-এর ব্যাপারে কাউকে অগ্রাধিকার দিতে চান না। এই কথার মধ্যে ভালোবাসা, আনুগত্য ও হৃদয়ের টান প্রকাশ পেয়েছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, দাম্পত্য সম্পর্কে সম্মান ও অনুমতি চাওয়া সুন্দর আচরণ। একই সঙ্গে রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি সাহাবিয়াদের গভীর ভালোবাসাও এতে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধিকার থাকা সত্ত্বেও অন্যের মন ও সম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া উত্তম আচরণ।
- রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা সাহাবিয়াদের জীবনে খুব গভীর ছিল।
- দাম্পত্য সম্পর্কে অনুমতি ও সম্মান সম্পর্ককে সুন্দর করে।
- প্রিয়জনের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালোবাসার প্রকাশ হতে পারে।
