১৮/৪. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪১ - ইখতিয়ার ও আখিরাতকে বেছে নেওয়ার শিক্ষা

যদি কেউ তার স্ত্রীকে তালাকের ইখতিয়ার দেয় তাহলে সেটা তালাক হবে না নিয়ত করা ব্যতীত।

ইখতিয়ারের হাদিস: আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকে বেছে নেওয়ার শিক্ষা

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৯৪১

حديث عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: لَمَّا أُمِرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَخْيِيرِ أَزْوَاجِهِ، بَدَأَ بِي؛ فَقَالَ: إِنِّي ذَاكِرٌ لَكِ أَمْرًا فَلاَ عَلَيْكِ أَنْ لاَ تَعْجَلِي حَتَّى تَسْتَأْمِرِى أَبَوَيْكِ، قَالَتْ: وَقَدْ عَلِمَ أَنَّ أَبَوَيَّ لَمْ يَكُونَا يَأَمُرَانِي بِفِرَاقِهِ قَالَتْ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ الله جَلَّ ثَنَاؤُهُ قَالَ (يأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ َلأزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا﴿ إِلَى ﴾أَجْرًا عَظِيمًا﴿ قَالَتْ: فَقُلْتُ فَفِي أَيِّ هذَا أَسْتَأْمِرُ أَبَوَيَّ، فَإِنِّي أُرِيدُ الله وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الآخِرَةَ؛ قَالَتْ: ثُمَّ فَعَلَ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ مَا فَعَلْتُ[ص: 115] أخرجه البخاري في: 65 كتاب التفسير: 33 سورة الأحزاب: 5 باب قوله ﴾إن كنتن تردن الله ورسوله والدار الآخرة﴿

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাঁর সহধর্মিণীদের ব্যাপারে ইখতিয়ার দেয়ার নির্দেশ দেয়া হল, তখন তিনি প্রথমে আমাকে বললেন, তোমাকে একটি বিষয় সম্পর্কে বলব। তাড়াহুড়ো না করে তুমি তোমার আব্বা ও আম্মার সঙ্গে পরামর্শ করে নিবে। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি অবশ্যই জানতেন, আমার আব্বা-আম্মা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলবেন না।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেছেনঃ “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর.....মহা প্রতিদান পর্যন্ত।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, এর মধ্যে আমার আব্বা-আম্মার সাথে পরামর্শের কী আছে? আমি তো আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন চাই। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর অন্যান্য সহধর্মিণী আমার অনুরূপ জবাব দিলেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৫: তাফসীর, অধ্যায় ৩৩, হাঃ ৪৭৮৬; মুসলিম, পর্ব ১৮: তালাক, অধ্যায় ৪, হাঃ ১৪৭৫

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৯৪১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ইখতিয়ার এবং আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া। রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) যখন তাঁর স্ত্রীদের সামনে সিদ্ধান্তের বিষয়টি রাখলেন, তখন তিনি তাড়াহুড়ো করতে বলেননি। বরং ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করার সুযোগ দিলেন। এতে বোঝা যায়, বড় সিদ্ধান্তে শান্তভাবে ভাবা ও পরামর্শ নেওয়া ভালো। কিন্তু ‘আয়িশা (রাঃ) স্পষ্টভাবে বললেন, তিনি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আখিরাতের জীবন চান। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অন্য স্ত্রীগণও একই উত্তর দিলেন। এখানে দুনিয়ার জীবন ও তার সাজসজ্জার সঙ্গে আখিরাতের জীবনের তুলনা এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, মুমিনের কাছে দুনিয়ার আরাম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের আশা তার চেয়ে বড়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বড় সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়ো না করে চিন্তা ও পরামর্শের সুযোগ রাখা ভালো।
  • দুনিয়ার সাজসজ্জার চেয়ে আল্লাহ, রাসূল ও আখিরাতকে প্রাধান্য দেওয়া মুমিনের সুন্দর গুণ।
  • সত্য সিদ্ধান্ত নিতে অন্তরের পরিষ্কার ইচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ।
  • রাসূলুল্লাহ্ (صلى الله عليه وسلم) সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি; বরং বোঝার সুযোগ দিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন