৪/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০০৩-[২৬] - সালাতে কোমরে হাত রাখার নিষেধ
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে কোমরে হাত রাখা কেন নিষেধ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০০৩-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০০৩-[২৬]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: الِاخْتِصَارُ فِي الصَّلَاةِ رَاحَةُ أَهْلِ النَّارِ . رَوَاهُ فِىْ شَرْحِ السُّنَّةِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ সালাতে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ানো জাহান্নামীদের বিশ্রাম স্বরূপ। (শারহুস সুন্নাহ) [১]
[১] দুর্বল : ইবনু খুযায়মাহ্ ৯০৯, ইবনু হিব্বান ২২৮৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ২২৭৩, য‘ঈফ আত্ তারগীব ২৯৭। হাদীসটি মুনকার, কারণ ‘আবদুল্লাহ বিন আল আযুর এর হিশাম বিন হিসান থেকে বর্ণিত হাদীসগুলো মুনকার যেমনটি ইমাম যাহাবী (রহঃ) তার ‘‘মীযান’’-এ উল্লেখ করেছেন। আর এ হাদীসটি সেগুলোর অন্তর্গত।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০০৩-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের একটি বিশেষ ভঙ্গি থেকে সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, সালাতে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ানো জাহান্নামীদের বিশ্রামের মতো। তাই নামাজে দাঁড়ানোর সময় এমন ভঙ্গি করা উচিত নয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সালাত নিজের পছন্দমতো দাঁড়ানোর জায়গা নয়; বরং নবীজির শেখানো আদব মেনে দাঁড়ানোর ইবাদত। কোমরে হাত রাখা অনেক সময় অহংকার, বিরক্তি বা অলসতার ভঙ্গির মতো দেখা যায়। তাই সালাতের সৌন্দর্য হলো বিনয়, স্থিরতা এবং আদব। এই হাদিস নামাজে শরীরের ভঙ্গি সম্পর্কেও সচেতন হতে শেখায়। শুধু মুখে কিরাআত নয়, দাঁড়ানোর ধরনও সালাতের শৃঙ্খলার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে কোমরে হাত বেঁধে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- নামাজে শরীরের ভঙ্গিও আদবের অংশ।
- সালাতে বিনয়ী ও স্থির অবস্থায় দাঁড়ানো উচিত।
- নবীজির নির্দেশ অনুযায়ী সালাত আদায় করা নিরাপদ পথ।
