১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৪-[৩৬] - তাকদীর নিয়ে অযথা কথা থেকে সতর্কতা
তাকদীরের প্রতি ঈমান - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
তাকদীর নিয়ে কথা বলার সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৪-[৩৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৪-[৩৬]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ تَكَـلَّمَ فِيْ شَيْءٍ مِنْ الْقَدَرِ سُئِلَ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يَتَكَـلَّمْ فِيهِ لَمْ يُسْأَلْ عَنْهُ. رَوَاهُ اِبْنُ مَاجَةَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি তাকদীর বিষয়ে আলোচনা করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। অপরদিকে যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে কোন আলোচনা করবে না, তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে না। [১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৮১, য‘ঈফুল জামি‘ ৫৫৩২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৪-[৩৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকদীর নিয়ে কথা বলার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তাকদীরের কোনো বিষয়ে আলোচনা করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে আলোচনা করবে না, তাকে সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে না। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, তাকদীর এমন একটি বিষয় যেখানে অযথা তর্ক, কৌতূহলী খোঁচাখুঁচি এবং সীমার বাইরে কথা বলা নিরাপদ নয়। তাকদীরের উপর ঈমান রাখতে হবে, কিন্তু এমন আলোচনা করা ঠিক নয় যা সন্দেহ বাড়ায় বা আল্লাহর ফয়সালা নিয়ে অবিনয় তৈরি করে। একজন মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ হলো—যা এসেছে তা মানা, এবং অকারণ তর্ক থেকে দূরে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীর নিয়ে অযথা তর্ক থেকে বাঁচতে হবে।
- যে বিষয়ে কথা বলা হবে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা হতে পারে।
- তাকদীরের উপর ঈমান রাখতে হবে, কিন্তু সীমা মানতে হবে।
- সন্দেহ বাড়ায় এমন আলোচনা এড়ানো ভালো।
