৪/২৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৪২-[১] - ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, তাই করবে
মুক্তাদির ওপর ইমামের যা অনুসরণ করা কর্তব্য এবং মাসবুকের হুকুম - প্রথম অনুচ্ছেদ
জামাতে এসে ইমামকে যে অবস্থায় পেলে কী করবেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৪২-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৪২-[১]
عَنْ عَلِيٍّ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «إِذَا أَتى أَحَدُكُمْ الصَّلَاةَ وَالْإِمَامُ عَلى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الْإِمَامُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
‘আলী ও মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কোনও লোক যখন জামাতের সালাতে শরীক হওয়ার জন্য আসবে তখন ইমাম যে অবস্থায় থাকবে ও যে কাজ করবে সেও সে কাজ করবে। (তিরমিযী; তিনি বলেন হাদিসটি গরীব) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৫৯১, সহীহ আল জামি‘ ২৬১, মু‘জাম আল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ২০/২৬৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৪২-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামা’আতের সালাতে দেরিতে এসে কীভাবে শরীক হতে হবে, তা সহজভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ যখন সালাতে আসে এবং ইমাম যে অবস্থায় থাকে, সে যেন ইমামের মতো সেই কাজ করে। অর্থাৎ ইমাম দাঁড়িয়ে থাকলে দাঁড়াবে, রুকুতে থাকলে রুকুতে যাবে, সিজদায় থাকলে সিজদায় যাবে। এখানে জামাতে যোগ দেওয়ার নিয়ম বোঝানো হয়েছে। দেরি হয়ে গেলে আলাদা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা বা নিজের মতো করে শুরু করা নয়; বরং ইমামের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়াই মূল শিক্ষা। এতে জামা’আতের শৃঙ্খলা থাকে এবং মুসল্লি ইমামের অনুসরণে সালাতে প্রবেশ করে। হাদিসটির ভাষা ছোট হলেও জামা’আতের বাস্তব জীবনের একটি প্রয়োজনীয় নিয়ম শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে দেরিতে এলেও ইমামের বর্তমান অবস্থায় শরীক হতে হবে।
- ইমামকে অনুসরণ করাই জামা’আতের সালাতের মূল নিয়ম।
- সালাতে নিজের মতো আলাদা গতি না ধরে ইমামের সঙ্গে চলা উচিত।
- দেরি হলে হতাশ না হয়ে সঠিকভাবে জামাতে যোগ দিতে হবে।
