৪/৩০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৯৯-[৩৩] - এক রাকআতে দুই সূরা পাঠ
সুন্নাত ও এর ফজিলত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
এক রাকআতে দুই সূরা পাঠের নববী আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১১৯৯-[৩৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১১৯৯-[৩৩]
وَعَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقْرِنُ بَيْنَهُنَّ فَذَكَرَ عِشْرِيْنَ سُورَةً مِنْ أَوَّلِ الْمُفَصَّلِ عَلى تَأْلِيفِ ابْنِ مَسْعُودٍ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ اخِرُهُنَّ ﴿حمٓ الدُّخَانَ﴾ وَ ﴿عَمَّ يَتَسَآءَلُوْنَ﴾. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যেসব সূরা পরস্পর একই রকমের ও যেসব সূরাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একসাথে করতেন আমি এগুলোকে জানি। তাই ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ তাঁর ক্রমিক অনুযায়ী বিশটি সূরা যা (তিওয়ালে) মুফাস্সালের প্রথমদিকে তা গুণে গুণে বলে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূরাগুলোকে এভাবে একত্র করতেন যে, এক এক রাক্‘আতে দুই দুইটি সূরা পাঠ করতেন। আর বিশটি সূরার শেষের দুইটি হলো, (৪৪ নং সূরা) হা-মীম আদ্ দুখা-ন ও (৭৮ নং সূরা) ‘আম্মা ইয়াতাসা-আলূন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭৭৫, ৪৯৯৬, মুসলিম ৮২২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১১৯৯-[৩৩]-এর সারসংক্ষেপ
আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তিনি এমন কিছু সূরা জানতেন যেগুলো পরস্পর মিলযুক্ত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেগুলোকে একসঙ্গে করতেন। তিনি নিজের ক্রম অনুযায়ী মুফাসসালের প্রথম দিকের বিশটি সূরা গুণে বলেন। নবী (সা.) এক এক রাকআতে দুইটি করে সূরা পাঠ করতেন। শেষের দুইটি হিসেবে হা-মীম আদ দুখান এবং ‘আম্মা ইয়াতাসা-আলূন উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাদিস সালাতে কিরাআত, এক রাকআতে দুই সূরা এবং কুরআন পাঠের বিন্যাস সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট বর্ণনা দেয়। এখানে কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়, বরং নবী (সা.)-এর এক ধরনের কিরাআতের আমল এসেছে। তাই কিরাআত বিষয়ে কথা বলার সময় বর্ণনার সীমা মেনে বলা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক রাকআতে দুই সূরা পাঠের বর্ণনা পাওয়া যায়।
- ইবনু মাসঊদ (রাঃ) কিছু মিলযুক্ত সূরার তালিকা জানতেন।
- সালাতে কুরআন পাঠের বিন্যাস নবী (সা.)-এর আমল থেকে শেখা যায়।
- এই হাদিসে নির্দিষ্ট সূরার উল্লেখ আছে, তবে বাড়তি তালিকা বানানো ঠিক নয়।
