৪/৫১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০৫-[৪] - বিনয় নিয়ে বৃষ্টির সালাতে যাওয়া

সিজদায়ে শুকর - প্রথম অনুচ্ছেদ

সালাতের বাইরে স্বতন্ত্র সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) তন্মধ্যে বালা-মুসীবাত দূরীভূত অর্জিত নি‘আমাতের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) এ ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। শাফি‘ঈ ও আহমাদের নিকট সুন্নাহ এবং এটা মুহাম্মাদ-এর উক্তি আর এ ব্যাপারে অসংখ্য হাদীস ও আসার বিদ্যমান। আবূ হানীফাহ্ ও মালিক-এর নিকট সুন্নাহ না, বরং তা মাকরূহ আর তাদের মতে উল্লেখিত সিজদা্ দ্বারা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) উদ্দেশ্য।প্রকৃতপক্ষে তাতে অংশ বিশেষ উল্লেখ করে গোটা বিষয়কে বুঝানো হয়েছে। এরূপ বহু ব্যবহার হয় যে অংশবিশেষকে নিয়ে গোটা বিষয়কে বুঝানো হয়। অথবা সিজদা্ শুকুর বিষয়টি রহিত হয়েছে। বা আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য অগণিত নি‘আমাতের মধ্যে যদি প্রতিটি নি‘আমাতের জন্য সিজদা্ করা হয় তাহলে বান্দা তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অপরাগ হবে। আর মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, বড় কোন নি‘আমাতের সুসংবাদের সময় এবং শারীরিক মুসীবাত দূরীভূতীর সময় কৃতজ্ঞতার সিজদা্ সুন্নাহ।সিনদী বলেন, এ বিষয়ে হাদীসসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ শারী‘আত সম্মত। আর ইমাম শাওকানী নায়লুল আওতারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ উল্লেখের পর বলেন যে, এ সকল হাদীস প্রমাণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ শারী‘আত সম্মত।

ইস্তিসকার সালাতে বিনয়ীভাবে বের হওয়ার শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫০৫-[৪]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يَعْنِىْ فِي الِاسْتِسْقَاءِ مُتَبَذِّلًا مُتَوَاضِعًا مُتَخَشِّعًا مُتَضَرِّعًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন অতি সাধারণ পোশাক পরিধান করে, বিনয়-বিনম্র অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিবেদন করতে করতে ইস্তিস্ক্বার সালাতের জন্য বের হয়ে গেলেন। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ) [১]

[১] হাসান : আবূ দাঊদ ১১৬৫, আত্ তিরমিযী ৫৫৮, নাসায়ী ১৫২১, ইবনু মাজাহ্ ১২৬৬, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৪৮৯৩, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৮৩৩৬, আহমাদ ২০৩৯, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৪০৫, দারাকুত্বনী ১৮০৭, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৩৮৭, ইরওয়া ৬৬৯।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০৫-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত এই হাদিসে ইস্তিসকার সময় নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি অতি সাধারণ পোশাক পরে বের হন, বিনয়ী থাকেন, আল্লাহর সামনে নত হন এবং নিবেদন করতে করতে যান। এই হাদিসে বৃষ্টির জন্য সালাতের বাহ্যিক পদ্ধতির চেয়ে অন্তরের অবস্থা বেশি ফুটে উঠেছে। অনাবৃষ্টি মানুষের দুর্বলতা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই ইস্তিসকার সালাত শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; বরং আল্লাহর কাছে প্রয়োজন, অভাব ও আশা প্রকাশের সময়। যারা বৃষ্টির নামাজের আদব জানতে চান, এই বর্ণনা তাদের শেখায়—দোয়ার আগে অন্তরকে বিনয়ী করা, নিজেকে ছোট মনে করা এবং আল্লাহর দরজায় ফিরে যাওয়া। তাই ইস্তিসকার আগে বাহ্যিক আয়োজনের চেয়ে অন্তরের নরম অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইস্তিসকার জন্য বের হওয়ার সময় বিনয়ী হওয়া নবীজির আমল।
  • সাধারণ পোশাক ও নম্রতা দোয়ার আদবের সঙ্গে যুক্ত।
  • অনাবৃষ্টির কষ্টে আল্লাহর কাছে নিবেদন করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন