৪/৫১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০২-[১] - বৃষ্টির সালাতে চাদর ঘোরানো
সিজদায়ে শুকর - প্রথম অনুচ্ছেদ
সালাতের বাইরে স্বতন্ত্র সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) তন্মধ্যে বালা-মুসীবাত দূরীভূত অর্জিত নি‘আমাতের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) এ ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। শাফি‘ঈ ও আহমাদের নিকট সুন্নাহ এবং এটা মুহাম্মাদ-এর উক্তি আর এ ব্যাপারে অসংখ্য হাদীস ও আসার বিদ্যমান। আবূ হানীফাহ্ ও মালিক-এর নিকট সুন্নাহ না, বরং তা মাকরূহ আর তাদের মতে উল্লেখিত সিজদা্ দ্বারা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) উদ্দেশ্য।প্রকৃতপক্ষে তাতে অংশ বিশেষ উল্লেখ করে গোটা বিষয়কে বুঝানো হয়েছে। এরূপ বহু ব্যবহার হয় যে অংশবিশেষকে নিয়ে গোটা বিষয়কে বুঝানো হয়। অথবা সিজদা্ শুকুর বিষয়টি রহিত হয়েছে। বা আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য অগণিত নি‘আমাতের মধ্যে যদি প্রতিটি নি‘আমাতের জন্য সিজদা্ করা হয় তাহলে বান্দা তা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অপরাগ হবে। আর মুল্লা ‘আলী ক্বারী বলেন, বড় কোন নি‘আমাতের সুসংবাদের সময় এবং শারীরিক মুসীবাত দূরীভূতীর সময় কৃতজ্ঞতার সিজদা্ সুন্নাহ।সিনদী বলেন, এ বিষয়ে হাদীসসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ শারী‘আত সম্মত। আর ইমাম শাওকানী নায়লুল আওতারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ উল্লেখের পর বলেন যে, এ সকল হাদীস প্রমাণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সিজদা্ শারী‘আত সম্মত।
ইস্তিসকার সালাতে চাদর ঘোরানোর সুন্নত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫০২-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫০২-[১]
عَنْ عَبْدِ اللّهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: خَرَجَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ إِلَى الْمُصَلّى فَاسْتَسْقى وَحَوَّلَ رِدَاءَه حِينَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَجَعَلَ عِطَافَهُ الْأَيْمَنَ عَلى عَاتِقِهِ الْأَيْسَرِ وَجَعَلَ عِطَافَهُ الْأَيْسَرَ عَلى عَاتِقِهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ دَعَا اللهَ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার ইস্তিসক্বার সালাত (বৃষ্টির জন্য সালাত) আদায়ের জন্য ঈদগাহের দিকে গমন করলেন। তিনি কেবলামুখী হবার সময় তাঁর গায়ের চাদর ঘুরিয়ে দিলেন। চাদরের ডানদিক তিনি বাম কাঁধের উপর এবং বামদিক ডান কাঁধের উপর রাখলেন। এরপর আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন। (আবূ দাউদ) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১১৬৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৪১৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫০২-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু যায়দ রাযি. বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বৃষ্টির জন্য সালাত আদায় করতে ঈদগাহের দিকে গেলেন। তিনি যখন কেবলামুখী হলেন, তখন নিজের চাদর ঘুরিয়ে দিলেন। ডানদিক বাম কাঁধে এবং বামদিক ডান কাঁধে রাখলেন। এরপর আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। ইস্তিসকার সালাত সম্পর্কে যারা জানতে চান, তাদের জন্য এই বর্ণনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সালাতের জায়গা, কেবলামুখী হওয়া, চাদর বদলানো এবং দোয়ার ধরণ একসঙ্গে এসেছে। হাদিসটি দেখায়, অনাবৃষ্টি হলে বান্দার কাজ হলো আল্লাহর কাছে ফিরতে থাকা। বাহ্যিক আমলের সঙ্গে অন্তরের ভরসাও আল্লাহর ওপর হওয়া চাই। একই সঙ্গে এই আমল মানুষকে মনে করায় যে বৃষ্টি চাওয়ার আসল ঠিকানা আল্লাহর দরবার, মানুষের কোনো শক্তি নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইস্তিসকার সালাতে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কেবলামুখী হয়ে দোয়া করেছেন।
- চাদর ঘোরানো এই বর্ণনায় নববী আমল হিসেবে এসেছে।
- অনাবৃষ্টির সময়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করাই প্রধান পথ।
