৪/৫২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১৭-[১০] - বাতাসকে অভিশাপ না দেওয়া
বৃষ্টির জন্য সালাত - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
বাতাসকে অভিশাপ দিলে বিপদ নিজের দিকে ফিরতে পারে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫১৭-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫১৭-[১০]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا لَعَنَ الرِّيحَ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ: «لَا تَلْعَنُوا الرِّيْحَ فَإِنَّهَا مَأْمُورَةٌ وَأَنَّه مَنْ لَعَنَ شَيْئًا لَيْسَ لَه بِأَهْلٍ رَجَعَتِ اللَّعْنَةُ عَلَيْهِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর সামনে বাতাসকে অভিসম্পাত করল। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বাতাসকে অভিসম্পাত করো না। কারণ তারা আজ্ঞাবহ। আর যে ব্যক্তি এমন কোন জিনিসকে অভিশাপ দেয় যে জিনিস অভিশাপ পাবার যোগ্য নয়। এ অভিশাপ তার নিজের ওপর ফিরে আসে। (তিরমিযী; তিনি বলেছেন, হাদীসটি গারীব) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ১৯৭৮, আবূ দাঊদ ৪৯০৮, ইবনু হিব্বান ৫৭৪৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫১৭-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে বাতাসকে অভিশাপ করল। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে নিষেধ করে বললেন, বাতাসকে অভিশাপ দিও না, কারণ তা আদেশপ্রাপ্ত। তিনি আরও বললেন, কেউ যদি এমন কিছুকে অভিশাপ দেয় যা অভিশাপের যোগ্য নয়, তাহলে সেই অভিশাপ তার নিজের ওপর ফিরে আসে। এই হাদিস ভাষার ব্যবহার নিয়ে স্পষ্ট সতর্কতা দেয়। বাতাস বিরক্তিকর হলেও তা আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর হুকুমে চলে। তাই মুমিনের মুখে গালি, অভিশাপ বা রাগের কথা মানায় না। এখানে বাতাসের দোয়া শেখানো হয়নি, কিন্তু বাতাসকে গালি না দেওয়ার কারণ বলা হয়েছে। এটি আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তা ঠিক করার একটি বাস্তব শিক্ষা। তাই ঝড় বা বাতাসে বিরক্ত হলেও মুখের কথা নিয়ন্ত্রণ করা এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাতাস আল্লাহর হুকুমে চলার কারণে তাকে অভিশাপ করা উচিত নয়।
- অন্যায় অভিশাপ নিজের ওপর ফিরে আসতে পারে।
- প্রাকৃতিক ঘটনা নিয়ে রাগের ভাষা ব্যবহার না করাই উত্তম।
