৫/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩১-[৯] - ব্যথা ও ক্ষতে নববী রুকইয়াহ

রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ

অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।

ব্যথা ও ক্ষতের জন্য নববী রুকইয়াহ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৩১-[৯]

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ إِذَا اشْتَكَى الْإِنْسَانُ الشَّيْءَ مِنْهُ أَوْ كَانَتْ بِه قَرْحَةٌ أَوْ جُرْحٌ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ بِأُصْبُعِه: «بِسْمِ اللّهِ تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا لِيُشْفى سَقِيْمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন মানুষ তার দেহের কোন অংশে ব্যথা পেলে অথবা কোথাও ফোড়া কিংবা বাঘী উঠলে বা আহত হলে আল্লাহর নবী (ﷺ) ঐ স্থানে তাঁর আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলতেন, “বিসমিল্লা-হি তুরবাতু আরযিনা- বিরীক্বাতি বা’যিনা- লিইউশ্ফা- সাক্বীমুনা- বিইযনি রব্বিনা-” (অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমাদের জমিনের মাটি আমাদের কারো মুখের থুথুর সাথে মিশে আমাদের রোগীকে ভালো করবে, আমাদের মহান রবের নির্দেশে)। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৪৫, মুসলিম ২১৯৪, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২১, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৩৫৬৯, আবূ দাঊদ ৩৮৯৫, ইবনু হিব্বান ২৯৭৩, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮২৬৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩১-[৯]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, কারো শরীরের কোনো অংশে ব্যথা, ফোড়া বা ক্ষত হলে নবী (صلى الله عليه وسلم) ঐ স্থানে আঙুল বুলিয়ে দোয়া করতেন। দোয়ায় আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে এবং জমিনের মাটি ও কারো মুখের থুথুর কথা এসেছে, যাতে আল্লাহর নির্দেশে রোগী ভালো হয়। এখানে মূল বিষয় হলো, আরোগ্যকে আল্লাহর অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা। তাই এই বর্ণনা রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁকের একটি নববী পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। তবে হাদিসের ভাষা যতটুকু বলেছে, ব্যাখ্যাতেও ততটুকুতেই থাকা উচিত। ব্যথা ও ক্ষতের সময় আল্লাহর নাম নিয়ে দোয়া করা মানুষের মনে ভরসা ও শান্তি আনে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ব্যথা, ফোড়া বা ক্ষতের সময় আল্লাহর নামে দোয়া করা যায়।
  • আরোগ্য আল্লাহর নির্দেশে হয়—এ কথা দোয়ায় স্পষ্ট।
  • রুকইয়াহর ক্ষেত্রে নববী শব্দ ও পদ্ধতির গুরুত্ব আছে।
  • রোগীর জন্য দোয়া ও কোমল আচরণ একসঙ্গে থাকা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন