৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩৫-[১৩] - সন্তানকে আল্লাহর আশ্রয়ে রাখা
রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।
সন্তানকে কুদৃষ্টি ও অনিষ্ট থেকে রক্ষার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৩৫-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৩৫-[১৩]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ يُعَوِّذُ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ: «أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» وَيَقُولُ: «إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهِمَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي أَكْثَرِ نُسَخِ الْمَصَابِيْحِ: «بِهِمَا» عَلى لَفْظِ التَّثْنِيَةِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে এ ভাষায় দোয়া করে আল্লাহর হাতে সোপর্দ করতেন। তিনি বলতেন, ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে প্রত্যেক শায়ত্বনের (শয়তানের) অনিষ্ট হতে, প্রত্যেক ধ্বংসকারী হিংস্র জন্তু জানোয়ারের ধ্বংস হতে, প্রত্যেক কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ হতে তোমাদেরকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করছি। তিনি আরো বলতেন, তোমাদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ) এ কালিমার দ্বারা তাঁর সন্তান ইসমা‘ঈল ও ইসহককে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করতেন। বুখারী; মাসাবীহ সংস্করণের অধিকাংশ স্থানে ‘বিহা’ শব্দের জায়গায় بهما (বিহিমা-) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে দ্বিবচন শব্দে।[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩৩৭১, আবূ দাঊদ ৪৭৩৭, আত্ তিরমিযী ২০৬০, ইবনু মাজাহ্ ৩৫২৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৩৫৭৭, আহমাদ ২১১২, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ১০৭৭৮, ইবনু হিব্বান ১০১৩, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪৭৮১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪১৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৪৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৩৫-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাসান ও হুসায়ন (রাঃ)-কে যে দোয়া দিয়ে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করতেন তা এসেছে। দোয়ায় তিনি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তানের অনিষ্ট, ক্ষতিকর হিংস্র প্রাণীর ধ্বংস এবং কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ থেকে আশ্রয় চাইতেন। তিনি আরও বলেন, তাঁদের পিতা ইব্রাহীম (আঃ) এই কালিমার মাধ্যমে ইসমাঈল ও ইসহাককে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করতেন। এখানে সন্তানকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করার শিক্ষা আছে। শিশু রক্ষা শুধু বাহ্যিক যত্নে সীমাবদ্ধ নয়; দোয়া ও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাদিসে যে শব্দ এসেছে, ব্যাখ্যায় তার বাইরে বাড়তি দাবি করা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানকে আল্লাহর আশ্রয়ে সোপর্দ করা নববী আমল।
- শয়তান, ক্ষতিকর প্রাণী ও কুদৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- দোয়ার ভাষায় আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার কথা এসেছে।
- ইব্রাহীম (আঃ)-এর আমলের কথাও এই বর্ণনায় উল্লেখ আছে।
