৫/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৪৮-[২৬] - মহামারী এলাকায় যাওয়া-আসার বিধান

রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ

অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।

মহামারী এলাকায় যাওয়া ও পালানো নিয়ে হাদিসের নির্দেশ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৪৮-[২৬]

وَعَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «الطَّاعُوْنُ رِجْزٌ أُرْسِلَ عَلى طَائِفَةٍ مِنْ بَنِىْ إِسْرَائِيْلَ أَوْ عَلى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِه بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدَمُوْا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا فَلَا تَخْرُجُوْا فِرَارًا مِنْهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ত্বা’ঊন বা মহামারী হলো এক রকমের ‘আযাব। এ ত্বা’ঊন বানী ইসরাঈলের একটি দলের ওপর নিপতিত হয়েছিল। অথবা তিনি (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের ওপর নিপতিত হয়েছিল। তাই তোমরা কোন জায়গায় ত্বা’ঊন-এর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে শুনলে সেখানে যাবে না। আবার তোমরা যেখানে থাকো, মহামারী শুরু হয়ে গেলে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে যেও না। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৭৩, মুসলিম ২২১৮, ২২১৯, আবূ দাঊদ ৩১০৩, আত্ তিরমিযী ১০৬৫, আহমাদ ২১৭৬৩, সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী ৭৪৮৩, ইবনু হিব্বান ২৯৫২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৫৬, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ২২৪৮।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৪৮-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ত্বা’উন বা মহামারীকে এক ধরনের শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা পূর্বের কিছু জাতির ওপরও এসেছিল। এরপর তিনি একটি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে শুনলে সেখানে যাওয়া যাবে না। আবার কেউ যদি এমন স্থানে থাকে, যেখানে মহামারী শুরু হয়েছে, তাহলে শুধু মহামারী থেকে পালানোর উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বের হবে না। এই হাদিসে মহামারী সম্পর্কে দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা আছে। এখানে মূল শব্দগুলো হলো মহামারী, ত্বা’উন, সতর্কতা, সবর ও আল্লাহর ওপর ভরসা। হাদিসটি ভয় ছড়ানোর জন্য নয়; বরং মানুষের চলাফেরায় সংযম, সমাজের নিরাপত্তা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে স্থির থাকার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মহামারী ছড়ানো এলাকায় অকারণে প্রবেশ করা উচিত নয়।
  • আক্রান্ত এলাকায় থাকলে শুধু পালানোর উদ্দেশ্যে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
  • মহামারীর সময় সতর্কতা ও ভরসা একসাথে দরকার।
  • নিজের সিদ্ধান্তে অন্যদের ক্ষতির কারণ হওয়া থেকে বাঁচতে হবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন