৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৪৭-[২৫] - মহামারীতে সবর ও শাহীদের সওয়াব
রোগী দেখা ও রোগের সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
অধিকাংশ লেখকবৃন্দ এর মধ্যে মুহাদ্দিসগণ ও ফুকাহারা জানাযাহ্ পর্বকে সালাতের পরে এনেছেন। কেননা মৃত ব্যক্তির সাথে গোসল, কাফন ইত্যাদি ক্রম করা হয় বিশেষ করে তার ওপর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করা হয় যেখানে তার জন্য কবরের ‘আযাব হতে মুক্তি পাওয়ার উপকারিতা বিদ্যমান থাকে। কারো মতে মানুষের দু’ অবস্থা একটি জীবিত অপরটি মৃত অবস্থা আর প্রত্যেকটির সাথে সম্পর্ক থাকে ‘ইবাদাত ও মু‘আমিলাতের হুকুম-আহকাম। আর গুরুত্বপূর্ণ ‘ইবাদাত হচ্ছে সালাত। সুতরাং যখন জীবিতকালীন সম্পর্কিত হুকুম-আহকাম হতে মুক্ত হল তখন মৃত্যুকালীন সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করা হল তন্মধ্যে সালাত ও অন্যান্য বিষয়।কারো মতে, জানাযার সালাত শুরু হয়েছে হিজরীর প্রথম বৎসরে, সুতরাং যারা মক্কায় মারা গেছে তাদের ওপর সালাত আদায় হয়নি।
মহামারীতে সবর: শাহীদের সওয়াবের নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৫৪৭-[২৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৫৪৭-[২৫]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَأَلَتْ رَسُولَ اللّهِ ﷺ عَنِ الطَّاعُونِ فَأَخْبَرَنِي: «أَنَّه عَذَابٌ يَبْعَثُهُ اللّهُ عَلى مَنْ يَشَاءُ وَأَنَّ اللّهَ جَعَلَه رَحْمَةً لِلْمُؤْمِنِيْنَ لَيْسَ مِنْ أَحَدٍ يَقَعُ الطَّاعُونُ فَيَمْكُثُ فِي بَلَدِه صَابِرًا مُحْتَسِبًا يَعْلَمُ أَنَّه لَا يُصِيْبُه إِلَّا مَا كَتَبَ اللّهُ لَه إِلَّا كَانَ لَه مِثْلُ أَجْرِ شَهِيْدٍ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে মহামারীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি আমাকে বললেন, এটা এক রকম ‘আযাব। আল্লাহ যার উপর চান এ ‘আযাব পাঠান। কিন্তু মু’মিনদের জন্য তা তিনি রহমাত গণ্য করেছেন। তোমাদের যে কোন লোক মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায় সবরের সাথে অবস্থান করে এবং আস্থা রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই হবে, তাছাড়া আর কিছু হবে না, তার জন্য রয়েছে শহীদের সাওয়াব। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩৪৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬৫৬০, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৪৪২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৫৪৭-[২৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশা (রাঃ) মহামারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি জানান, এটি এক ধরনের ‘আযাব, আল্লাহ যাঁর ওপর চান পাঠান। তবে মু’মিনদের জন্য আল্লাহ একে রহমত করেছেন। হাদিসে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, কেউ যদি মহামারী কবলিত এলাকায় সাওয়াবের আশায়, সবরের সাথে অবস্থান করে এবং বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাই হবে, তাহলে তার জন্য শহীদের মতো সওয়াব রয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো মহামারীতে ধৈর্য, তাকদীরের ওপর আস্থা এবং সওয়াবের আশা। তবে এটি অবহেলা করার অনুমতি নয়। একই বিষয়ে অন্য হাদিসে আক্রান্ত এলাকায় যাওয়া ও সেখান থেকে পালানোর ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মহামারীর সময় সবর ও সওয়াবের আশা রাখা জরুরি।
- আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তার বাইরে কিছু হবে না—এই বিশ্বাস দরকার।
- মু’মিনের জন্য মহামারীতেও রহমতের দিক থাকতে পারে।
- সঠিক নিয়ত ও ধৈর্যের সাথে অবস্থান করলে শহীদের সওয়াবের কথা এসেছে।
