৫/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬২১-[৬] - শেষ কথায় কালিমার মর্যাদা
মুমূর্ষু ব্যক্তির নিকট যা বলতে হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
শেষ কথায় কালিমা: জান্নাতের সুসংবাদ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৬২১-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৬২১-[৬]
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ كَانَ اخِرُ كَلَامِه لَا إِلهَ إِلَّا اللّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ»رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির শেষ কথা, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’ (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই) হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবূ দাঊদ) [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩১১৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১২৯৯, ইরওয়া ৬৮৭, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৬৪৮০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৬২১-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো তাওহীদের কালিমা, অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর মর্যাদা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যার শেষ কথা এই কালিমা হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাই মৃত্যু ও আখিরাতের আলোচনায় এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শেষ কথা বলতে জীবনের শেষ মুহূর্তে ঈমানের ঘোষণা বোঝানো হয়েছে। একজন মুমিনের পুরো জীবন যেন আল্লাহর একত্বের বিশ্বাসে থাকে, আর শেষ সময়েও সেই বিশ্বাস মুখে ও অন্তরে থাকে—এটাই এই হাদিসের সহজ বার্তা। এটি মৃত্যুর সময় কালিমা, শেষ আমল, জান্নাতের সুসংবাদ এবং তাওহীদের গুরুত্বকে সামনে আনে। হাদিসটি মানুষকে দুনিয়ার ব্যস্ততার মধ্যেও ঈমানকে জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে ধরে রাখতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ঈমানের মূল ঘোষণা।
- শেষ সময়েও তাওহীদের ওপর থাকা মুমিনের বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
- মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে ঈমান ও আমল ঠিক রাখার তাগিদ আসে।
- কালিমার অর্থ বুঝে জীবনে তা ধরে রাখা জরুরি।
